মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা গালফস্ট্রিমের জি৭০০ মডেল সদ্যসমাপ্ত সিঙ্গাপুর এয়ারশোর দর্শনার্থীদের মনোযোগ কেড়েছে। বাহুল্যহীন নকশা, প্রশস্ত পাখা ও বড় গোলাকার জানালা প্রাইভেট জেটটির প্রধান আকর্ষণ।

এশিয়ার বৃহত্তম এ উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর মূল অংশে ছিল বাণিজ্যিক ও সামরিক উড়োজাহাজ। কিন্তু দূরে টার্মিনালের কোণে দাঁড়ানো জি৭০০ দর্শনার্থীদের নজর এড়াতে পারেনি, তারা উড়োজাহাজটি দেখতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেছেন।

কয়েক কোটি ডলার দামের নতুন এ উড়োজাহাজে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে স্বচ্ছ জানালা, হালকা চামড়ার আসন ও পলিশ করা কাঠের ইন্টেরিয়র। সোফা ও টিভি কনসোলসহ রয়েছে লিভিং এরিয়া। পেছনে গ্র্যান্ড সুইট নামের শয়নকক্ষের সঙ্গে রয়েছে গোসলের ব্যবস্থা।

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিষেবা গত কয়েক বছরে বেশ সম্প্রসারণ হয়েছে। এ বাজারে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে দিন দিন। সে তুলনায় গ্রাহক কম হলেও প্রাইভেট জেট নির্মাতারা পিছিয়ে নেই। যার উদাহরণ জি৭০০-এর প্রতি ধনী গ্রাহক গোষ্ঠীর মনোযোগ, তা-ই বলছেন বিশ্লেষকরা।

উইংএক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে প্রাইভেট জেট ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৭ লাখ, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ ও কভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৩ কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদের মালিক আল্ট্রা হাই নেট ওয়ার্থ ইন্ডিভিজুয়ালের সংখ্যা বেড়েছে ৭০ শতাংশ। গালফস্ট্রিমের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা স্কট নীল বলেন, ‘বড় করপোরেশন ও ধনী ব্যক্তিদের জন্য ব্যবসায়িক উড়োজাহাজের চাহিদা বাড়ছে।’

আজকাল ধনীরা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার জন্য প্রাইভেট জেটের ওপর বেশি নির্ভর করছেন। তারা বিলাসিতার তুলনায় অধিক দক্ষ উড়োজাহাজ চান, বেশি ভ্রমণ ও কম ক্লান্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাদের চাহিদাকে সামনে রেখে নতুন প্রাইভেট জেটগুলোয় উন্নত কেবিন প্রেসার, কম শব্দ ও আরামদায়ক ইন্টেরিয়রকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব বৈশিষ্ট্য দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি কমায়। দাসো ফ্যালকন ৬এক্স ও গালফস্ট্রিম জি৭০০ মডেলের এসব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এ বাজারে গালফস্ট্রিমের সঙ্গে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বোমবার্ডিয়ে, এমব্রায়ার ও সেসনা-খ্যাত টেক্সট্রন।

আলট্রন এভিয়েশন কনসালট্যান্সির প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আন্তর্জাতিক ট্রাফিক বেড়েছে ৮ শতাংশ। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিশেষ করে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওসে প্রাইভেট জেট সরবরাহ বাড়ছে।

অবশ্য ক্রমবর্ধমান প্রাইভেট জেট নিয়ে পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের আকাশযান কার্বন ইনটেনসিভ। তবে গালফস্ট্রিমের নতুন উড়োজাহাজ শতভাগ টেকসই জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষম; দাসোর ক্ষেত্রে যা ৫০-৫০ মিশ্রণ।

অবশ্য সব অতিধনীরা প্রাইভেট জেটে চলাচল করেন এমন নয়। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোও এমন যাত্রীদের লক্ষ্য করছে। তাইওয়ান স্টারলাক্স সম্প্রতি বড় ফোরকে স্ক্রিন ও প্রশস্ত আসনসহ বিজনেস ও প্রিমিয়াম ইকোনমি কেবিন সম্প্রসারণ করেছে।

খবর বিবিসি