চলতি বছরের শুরুতে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) দাম কমানোর মাধ্যমে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করেছেন ইলোন মাস্ক। যুক্তরাজ্যের বাজারে টেসলার প্রতি ইউনিটের দাম ৮ হাজার পাউন্ড কমানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির দাম যখন কমছে, তখন পুরনো জমানার পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির দাম কমারও পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। কম্পিউটার চিপ থেকে শুরু করে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের বাজার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। যে কারণে উৎপাদন বাড়ছে।
ইউবিএসের একজন বিশ্লেষক জানান, মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বের মানুষ জীবনযাপনে হিমশিম খাচ্ছে। ঠিক তখনই গাড়ির মূল্য কমার ও সরবরাহ বাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। বিশ্ব অর্থনীতি এখন মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষক মনে করছেন, বিক্রির তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো গাড়ি উৎপাদন আরো বাড়াবে। ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে।
গাড়িপ্রেমীদের জন্য বিষয়টি ইতিবাচক হলেও, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি চালানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার চালকদের উদ্বুদ্ধ করার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। যুক্তরাজ্যের গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের সঙ্গে পারিবারিক পর্যায়ে ব্যবহৃত গাড়ি জড়িত। আর এ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই ব্রিটেন ২০৫০ সাল নাগাদ শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী দেশে পরিণত হতে চাইছে। দেশটির সরকার এরই মধ্যে ২০৩০ সাল নাগাদ ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে অধিবাসীদের বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন ঘটনা ঘটলেও গাড়ির বাজার এখনো সংবেদনশীল। ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরু হলে পেট্রলের দাম নাগালের বাইরে চলে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় থেকে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। তবে বছর না ঘুরতেই এ অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কমছে পেট্রলের।
সিটি ইউনিভার্সিটির বায়েস বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক মোহান সোধি বলেন, ‘বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির তুলনায় পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি তুলনামূলক কম দামি। সেই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এ খাতে দামের যুদ্ধ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি পেট্রোলচালিত গাড়ি সুবিধাজনক। দুটির মধ্যে ৭ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার পাউন্ডের পার্থক্য রয়েছে। সেই সঙ্গে গাড়ি কোথায় চার্জ করবেন, সে চিন্তাও নেই।’
গত বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার জন্য অনুদান দিয়ে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে এ খাতে সাহায্যের অভাব দামের ব্যবধান ব্যাটারিচালিত এসব গাড়ির বিক্রি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি কাছাকাছি দূরত্বে পেট্রোলচালিত গাড়ির তুলনায় ইভির খরচ কম হওয়ায় এর বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত বছর থেকে পেট্রোলের দাম কমতে থাকায় এ সুবিধাও তেমন শক্তিশালী অবস্থানে নেই।
পেট্রোল ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির মধ্যে সেভাবে পার্থক্য করা সম্ভব নয়। তবে কারওয়াওয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ফক্সওয়াগন গলফ গাড়িতে করে ৮ হাজার মাইল পাড়ি দিতে বাৎসরিক খরচ ১ হাজার ১৪ পাউন্ড। এছাড়া আরো ২১০ পাউন্ড কর দিতে হয়। অন্যদিকে একই আকৃতির আইডি থ্রি বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে ওই পথ পাড়ি দিতে চালকের ব্যয় হয় ১৯১ পাউন্ড। ফলে বছরে ১ হাজার ৩৩ পাউন্ড বেঁচে যায়। অধ্যাপক সোধির মতে, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বিক্রি, চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে হলে দাম আরো কমাতে হবে।










