বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. এন আই ভূঁইয়া এবং তার বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গতকাল এ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন রোগীর বায়োপসি সম্পন্ন করেন।
এ অর্জনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে ডা. এন আই ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজ একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। স্কয়ার হাসপাতালে আমরা দেশের প্রথম রোবোটিক অ্যাসিস্টেড এমআরআই-ইউএসজি ফিউশন প্রোস্টেট বায়োপসি সম্পন্ন করেছি। প্রোস্টেট ক্যান্সার নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরো জানান, এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বখ্যাত মোনা লিসা রোবোটিক বায়োপসি সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি এমন একটি উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি, যা সার্জনকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে বায়োপসি করতে সহায়তা করে।
প্রথাগত বায়োপসি পদ্ধতিতে অনেক সময় প্রোস্টেটের ভেতরের ক্ষুদ্র টিউমার শনাক্ত করা কঠিন হয় বা সুঁই সঠিক স্থানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। কিন্তু এই সিস্টেমটি রোগীর পূর্ববর্তী এমআরআই এবং তাৎক্ষণিক আল্ট্রাসাউন্ড ছবি একত্রিত করে একটি ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করে।
এ থ্রিডি ম্যাপের ভিত্তিতে রোবোটিক গাইডেন্সে প্রোস্টেটের নির্দিষ্ট ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এতে পরীক্ষার নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং রোগীকে বারবার বায়োপসি করার প্রয়োজন পড়ে না।
এর ফলে রোগীদের এখন আর বিদেশে গিয়ে এই ধরনের উন্নত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হবে না। স্কয়ার হাসপাতালের লক্ষ্য হচ্ছে দেশে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের, নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
ডা. এন আই ভূঁইয়া আরো যোগ করেন, ‘ইউরোলজি চিকিৎসায় আর বিদেশ নয়—আমাদের দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা হচ্ছে।’— সংবাদ বিজ্ঞপ্তি










