টানা আট নিলামে কমেছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক। ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের (ডব্লিউএমপি) দরপতন মূল্যসূচকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এমনকি সর্বশেষ নিলামে ফন্টেরা ডব্লিউএমপির সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ডে গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের সর্বশেষ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যটির দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ।

ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধকে (ডব্লিউএমপি) জিডিটি নিলামের প্রধান পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পণ্যটি থেকে সরসরি লাভবান হন খামারিরা। সর্বশেষ নিলামে ডব্লিউএমপির দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন ডব্লিউএমপির গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৯৮ ডলারে। এদিকে পণ্যটির সেপ্টেম্বরে সরবরাহ চুক্তিমূল্য কমেছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিমূল্য ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। নিলামে ডব্লিউএমপির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। দেশটির ব্যবসায়ীরা দুই-তৃতীয়াংশ ডব্লিউএমপি ক্রয় করেছেন।

প্রতি মাসে দুবার বৈশ্বিক দুগ্ধপণ্যের বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৬৬০ টন দুগ্ধ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৪ হাজার ৮৪ টন। নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম উঠেছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এবারের নিলামে ১৭০ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১৯ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন।

এনজেডএক্স ডেইরি অ্যানালিস্ট স্টুয়ার্ট ডেভিসন বলেন, চলতি মাস থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত নিলামে ডব্লিউএমপির সরবরাহ ২০ হাজার টন পর্যন্ত কমিয়ে আনবে ফন্টেরা। সর্বশেষ নিলামে পণ্যটি ৩ হাজার ১০০ টন কম সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ কমিয়ে আনলে মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিলামে ল্যাকটোজ ও মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়েছে। ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি গড়ে ৩ হাজার ২০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। চলতি মাস থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত এসএমপির সরবরাহও কমাবে ফন্টেরা। এ সময়ের মধ্যে সরবরাহ ছয় হাজার টন কমানো হবে। সর্বশেষ নিলামে ৫০০ টন কম সরবরাহ করা হয়।

এদিকে মাখনের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। নিলামে প্রতি টন মাখন গড়ে ৪ হাজার ৫৮৯ ডলারে বিক্রি করা হয়। চেডার পনিরের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে গড়ে ৪ হাজার ৬৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৬৮ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে ল্যাকটোজের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১ হাজার ৯৪ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ২৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। নিলামে সুইট হুইট মিল্ক পাউডার প্রস্তাব করা হয়নি।