নিম্নমুখিতায় শেষ হয়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বাজার। গতকাল সর্বশেষ কার্যদিবসে এ ভোজ্যতেলের দাম আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমে যায়। মূলত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতনের কারণে পাম অয়েলের দাম কমেছে। এদিকে অক্টোবরে রফতানিতে ধস নামলেও চলতি মাসের প্রথমার্ধে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তবে উৎপাদন আগের মতোই নিম্নমুখী। যদিও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভিটিভস এক্সচেঞ্জে ফেব্রুয়ারি সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন বাজার আদর্শ পাম অয়েলের দাম ২৩ রিঙ্গিত বা দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। অধিবেশনের শুরুর দিকে প্রতি টন পাম অয়েল ৪ হাজার ৮৭৬ রিঙ্গিত বা ১ হাজার ১৬৬ ডলার ৭৯ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় চুক্তিপত্র লেনদেন বেড়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য কমে যাওয়ায় বায়োডিজেল হিসেবে আকর্ষণ হারিয়েছে পাম অয়েল। এ কারণে পণ্যটির দাম কমে যায়। এদিকে প্রধান উৎপাদন মৌসুম শেষ হওয়ায় মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাত বাড়ায় উৎপাদন আরো ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রয়টার্স জানায়, গত মাসে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি কমে গিয়েছিল। উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফুলেফেঁপে ওঠে মজুদ। অক্টোবরে দেশটির বন্দর ছেড়ে যাওয়া কার্গোর তথ্য বলছে, ওই মাসে পাম অয়েল রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে রফতানি করা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার টন। শীর্ষ ক্রেতা ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় রফতানি সবচেয়ে বেশি কমে।
বাজারবিশ্লেষকরা বলছেন, অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে। এ সময় উৎপাদন হয়েছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার টন। এ নিয়ে টানা দুই মাসের মতো উৎপাদন কমে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, ইতিহাসের সর্বনিম্ন পাম অয়েল উৎপাদন পরিস্থিতি দেখতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। বিদেশী শ্রমিক সংকটের তীব্রতা উৎপাদন নিম্নমুখী করে তুলছে। তবে চলতি মাসের চিত্র ভিন্ন। পণ্যবাহী জাহাজের তথ্যানুযায়ী, ১-১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশটির পাম অয়েল রফতানি আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে সক্রিয় সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তি মূল্য ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এতে পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ সরবরাহমূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।










