বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থবিরতার মধ্য দিয়ে চললেও কানাডায় কর্মসংস্থান বাজার এখনো শক্তিশালী রয়ে গিয়েছে। গত অক্টোবরে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান পূর্বাভাসের চেয়েও ১০ গুণ বেশি হয়েছে। এ সময়ে বেকারত্বের হারও স্থিতিশীল রয়েছে। এ পরিস্থিতি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আরো আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াতে প্ররোচিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির সরকারের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে কানাডার শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৩০০। যেখানে পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল ৯৮ হাজার ৩০০। পাশাপাশি এ সময়ে দেশটির বেকারত্ব হার ৫ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও কানাডার শ্রমবাজারের এমন পরিসংখ্যানকে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে গত সপ্তাহে ব্যাংক অব কানাডা (বিওসি) সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ছোট অঙ্কের বৃদ্ধির পর সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর পরও অপ্রত্যাশিতভাবে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান ১০ গুণ বেড়েছে।

কানাডায় পুঁজিবাজার সম্পর্কিত সংস্থা স্কশিয়াব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেরিক হোল্ট বলেন, দেশের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওসি) শক্তিশালীভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছে। বিষয়টি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।

এদিকে সুদের হারের বিষয়ে আগামী ডিসেম্বরে বিওসির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকের আগে কানাডার শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডেরিক হোল্ট আরো বলেন, দেশে নতুন কর্মসংস্থানের ঊর্ধ্বগতিতে বিওসির সুদের হার আরো ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানের তথ্যে আরো বলা হয়, সুদের হার বৃদ্ধির পরও শ্রমবাজার শক্তিশালী থাকায় ডিসেম্বরে সুদের হার পুনরায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হবে বলে মনে করেন ৬৫ শতাংশ বিনিয়োগকারী। এর আগে এ হার ৫০ শতাংশ ছিল।

এদিকে ২০২৩ সালের শুরুতে দেশটিতে পলিসি রেট বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অক্টোবরে পণ্য ও পরিষেবা খাতে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি গড় মজুরি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে সেপ্টেম্বরে এ মজুরি বাড়ার হার ছিল ৫ দশমিক ২ শতাংশ। গত মাসে সামগ্রিকভাবে মোট কর্মসংস্থান গত মে মাসের স্তরকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। মাঝে গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশটির শ্রমবাজার কিছুটা দুর্বল ছিল।