দেশের প্রধান বন্দরনগরী ও বিনিয়োগ হাব হিসেবে চট্টগ্রামের প্রতি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা। গতকাল চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা জানান। দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চট্টগ্রাম মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা চট্টগ্রামের অর্থনীতির লাইফলাইনকে বর্ধিত করছেন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর-কক্সবাজার পর্যন্ত। এর ফলে চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে এ অঞ্চলের আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স হাব। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে গড়ে উঠবে বন্দরকেন্দ্রিক বৃহৎ শিল্প-কারখানা। সৃষ্টি হবে কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। বঙ্গবন্ধু টানেলের দক্ষিণ প্রান্ত পূর্ব আনোয়ারা থেকে বাঁশখালী-চকরিয়া-পেকুয়া-ঈদমনি-মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সরাসরি সড়কটি সম্প্রসারণ করা হলে চট্টগ্রাম থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখানে কোনো স্থায়ী কনভেনশন সেন্টার কিংবা এক্সিবিশন সেন্টার নেই। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বে-টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে ২০ একর জায়গায় আন্তর্জাতিকমানের কনভেনশন সেন্টার ও বাংলাদেশ শোকেস করার প্রস্তাব করেছি। একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো চিটাগং চেম্বারও তা বাস্তবায়ন করবে বলে আশা রাখছি। এ বিষয়টিও মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট, উন্নত ও সমৃদ্ধ শিল্পায়ন ও নগরায়ণের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামকে রূপান্তর করতে মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। বাণিজ্য নগরী হিসেবে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত, আধুনিক আবাসন এবং ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প মাস্টার প্ল্যানে রাখার প্রস্তাব করেন।

চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। তিনি বলেন, আগের মাস্টার প্ল্যানগুলো হয়েছে বিভিন্ন জরিপের শিট দেখে। কিন্তু এ মাস্টার প্ল্যান করার আগে জনগণকে এবং স্টেকহোল্ডারদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যার ফলে আমরা আশা করছি একটি ভালো ও উন্নত মাস্টার প্ল্যান উপহার দিতে পারব।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বিএসআরএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসেইন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক আমিরুল হক, দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান রুহেল, আইএবি-চট্টগ্রাম চেয়ারম্যান স্থপতি আশিক ইমরান প্রমুখ।