চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার টাস্কফোর্সের পরামর্শক ফারহানুল গণি চৌধুরীর সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছিল। নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর এ টাস্কফোর্সের পরামর্শকের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করেছেন। এ সময় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ‘ফাস্ট ট্র্যাক’-এ নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুখপাত্র জানান, গভর্নর পদে পরিবর্তনের পর অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে যে নতুন গভর্নরের সময় ব্যাংক খাত সংস্কার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনাসহ অন্যান্য বিষয়ে পদক্ষেপ শিথিল হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নতুন গভর্নরের সময়েও ব্যাংক খাত সংস্কারের কার্যক্রম নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের শাসনামলে দেশের ব্যাংক খাত থেকে কয়েক লাখ কোটি টাকা লোপাট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির নামে বের করে নেয়া এসব ঋণ এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। এতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায়। এর বড় একটি অংশ দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০০৯ সাল-পরবর্তী ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ উপায়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে)। সে হিসাবে প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।










