অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার। মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কার্ভের (সরকারি ঋণের সুদহারের গতিরেখা) গতি নিম্নমুখী হওয়ার পাশাপাশি চীন ও ইউরোপে অর্থনৈতিক শ্লথতা দেখা দেয়ায় বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে মূল্যবান ধাতু দুটির। অন্যদিকে নিম্নমুখী হয়ে উঠেছে শিল্প খাতে ব্যবহূত দুই মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজার। খবর মার্কেটওয়াচ।
প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক শ্লথতা ও মন্দার সময়ে পুঁজি ও মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। অন্যদিকে সুদমুক্ত বিনিয়োগ হওয়ায় এ সময় স্বর্ণ ও রুপার বিনিয়োগ ঝুঁকি থাকে অনেক কম। এ কারণে আপত্কালীন বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান ধাতু দুটির, বিশেষ করে স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদা ও দাম দুটোই থাকে বেশি।
স্বর্ণ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান গ্রানাইটশেয়ারসের গবেষণা পরিচালক রায়ান জিয়ানোত্তো বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে সাধারণ যুক্তি হিসেবে অনেকে ইল্ড ইনভারশন (যখন সরকারি স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদহার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারের তুলনায় বেশি হয়) ও মন্দার মধ্যকার স্বাভাবিক সম্পর্কের কথা বলছেন। এখানে মূল বিষয়টি হলো, সুদহারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। ফলে স্বর্ণের বাজার গতিতেও এখন বড় ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে শুধু সুদহারই যে হ্রাস পাবে বিষয়টি এমন নয়। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইল্ড ইনভারশনের শঙ্কার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার শঙ্কাও দেখা যাচ্ছে এখন।
নিউইয়র্কের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (কোমেক্স) বুধবার স্বর্ণের দাম বেড়েছে আউন্সে ১৩ ডলার ৭০ সেন্ট। ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে এদিন পণ্যটির দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে স্থির হয় প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫২৭ ডলার ৮০ সেন্টে। ফ্যাক্টসেট ডাটার পরিসংখ্যান বলছে, দিনের সর্বশেষ মূল্য হিসেবে এটি ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে এর আগে মঙ্গলবারের বাজারে পণ্যটির দরপতন হয়েছিল দশমিক ২ শতাংশ।
এ বিষয়ে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট লুকমান ওতুনুগা বলেন, স্বর্ণের দরবৃদ্ধির বিষয়টি এখন বাজারের মৌলিক কিছু উপাদান দিয়ে সুরক্ষিত। যতক্ষণ পর্যন্ত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শিথিল মুদ্রানীতির মতো বিষয়গুলো বিরাজ করবে, ততদিন স্বর্ণের বাজারে বুলিশ প্রবণতা (জোরালো ক্রয় প্রবণতা ও এর পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যের ঊর্ধ্বগতি) বজায় থাকবে।
কোমেক্সে এদিন রুপার বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে বাজারে এদিন রুপার দাম বেড়েছে আউন্সে ২৯ দশমিক ৫ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে কোমেক্সে বুধবার পণ্যটির বাজার স্থির হয় প্রতি আউন্স ১৭ ডলার ২৮ সেন্টে।
স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়লেও শিল্প খাতে ব্যবহূত দুই মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মূল্য এদিন ছিল কমতির দিকে। কোমেক্সে এদিন সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আউন্সে ৩৫ ডলার ১০ সেন্ট কমে এদিন পণ্যটির সর্বশেষ বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪১৬ ডলার ৪০ সেন্টে। অন্যদিকে অক্টোবরে সরবরাহের চুক্তিতে প্লাটিনামের দাম কমেছে আউন্সে ১১ ডলার ৭০ সেন্ট। বুধবার দিন শেষে পণ্যটির বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৮৪৮ ডলারে। দিনব্যাপী লেনদেনে পণ্যটির দরপতনের হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।










