বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য কমতে শুরু করেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকায় মূল্য কমেছে। পাশাপাশি বাজারে ডলারের মূল্য স্থিতিশীল থাকা এবং ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে আসার সম্ভাবনাও দাম কমাতে সহায়তা করেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
তথ্য বলছে, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চলেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের মূল্য কমেছে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে জ্বালানি তেলের মূল্য ১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ১৭ ডলারে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মূল্য ১ দশমিক ৮০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ১৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
এমিরেটস এনবিডির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল (মেনা) অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল রিচার্ডস বলেন, ওপেক মহাসচিব কর্তৃক বাজার বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবারো অস্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ওপেক মহাসচিব হাইথাম আল গাইস বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমার আভাস মিলছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটির সরকার গত সপ্তাহে ঋণের হার কমিয়েছে। তবুও জুলাইয়ে দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে ধীরগতি হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বেইজিংয়ের জিরো কভিড নীতির কারণে দেশটির কারখানা এবং খুচরা বিক্রি কমার কারণে এমনটি হয়েছে।
অ্যাভাট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক নাঈম আসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস অর্থনীতির ধীর প্রবৃদ্ধি জ্বালানি তেলের মূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। তারা চীনের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত আছেন। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম সিচুয়ান প্রদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার কারণে কিছু অঞ্চলে বিদ্যুতের বিধিনিষেধ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাবিত করবে। পাশাপাশি ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে আসার সম্ভাবনার বিষয়েও অবগত রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা রোববার এক অনলাইন সাক্ষাত্কারে ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া অবলোকন করেছে এবং ইইউ চুক্তিটি পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তিটি ইরানকে বাজারে আরো জ্বালানি তেল বাড়াতে সহায়তা করবে। এর ফলে
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট সরবরাহ সংকট নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষক নাঈম আসলাম আরো বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস ফেড যদি তার অযৌক্তিক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে এবং জ্বালানি তেলের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসন হোলেতে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোমি পাওয়েল ব্যাংকের বার্ষিক সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতা দেবেন এবং ভবিষ্যৎ সুদহার বৃদ্ধির নির্দেশ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। ফেডের পরবর্তী সভা আগামী ২০-২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই সভায় টানা তৃতীয়বারের মতো সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
কারণ দেশটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টায় রয়েছে, যা চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে। পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সোমবার মার্কিন ডলার সূচক সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এছাড়া সিম্পোজিয়ামের আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার কঠোর আর্থিক নীতিতে অব্যাহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে।










