যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আগস্টে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়ার চাপ কিছুটা ধীর হয়েছিল। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকারও আশা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। তবে সেপ্টেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি আবারো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অক্টোবরে ভোক্তা মূল্য সূচক ৪১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। নতুন করারোপ ও সরকারি ব্যয়ে কাটছাঁট পরিকল্পনা প্রকাশের মধ্যে এমন তথ্য জীবনযাত্রার সংকট নিরসনে আরো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো করেছে।

এপির খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছে। এ পরিস্থিতি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে বিপর্যয়ে ফেলে দিয়েছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, গত মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ হার সেপ্টেম্বরের ১০ দশমিক ১ শতাংশকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। যেখানে অর্থনীতিবিদরা ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। খাদ্য ও জ্বালানির উচ্চ দাম যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির হারকে ১৯৮১ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট কয়েক লাখ পাউন্ড সরকারি ব্যয় কমানোর এবং কর বাড়ানোর পরিকল্পনা উন্মোচন করার একদিন আগে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ হলো। মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে নাগরিকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এ প্রণোদনা দিতে যাচ্ছে সরকার।

গত মাসে দেশটিতে খাদ্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এ সময়ে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ পল ডেলস বলেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার পরও মূল্যস্ফীতির চাপ রেকর্ড উচ্চতায় থেকে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মন্দার ঝুঁকির মধ্যেও আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণে আসার পরিবর্তে ক্রমবর্ধমান রয়েছে।

এর আগে আগামী বছরের শুরুতে দেশটির মূল্যস্ফীতি ১৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সিটিগ্রুপ। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি জনিয়েছে, ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিপিআই ১৮ শতাংশে পৌঁছবে। এছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ড চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছে। সর্বশেষ দেশটির মূল্যস্ফীতি ১৮ শতাংশে পৌঁছেছিল ১৯৭৬ সালে। সে সময় জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল।