আগস্টে চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আশঙ্কার চেয়েও কমেছে। কম মুনাফা মার্জিনের কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এ কারণে জাতীয় উৎপাদন নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। আগস্টে দেশটি ৮ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। জুলাইয়ে উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৮ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে গত বছরের আগস্টের তুলনায় উৎপাদন ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস।
জুলাইয়ে দেশটি প্রতিদিন ২৯ লাখ ৩০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করে। আগস্টে তা কমে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমে যায়। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক উৎপাদন বেড়েছে। সাংহাইভিত্তিক ব্রোকারেজ এফআইএসের বিশ্লেষক পেই হাও বলেন, ‘উৎপাদন এত বেশি কমে যাবে বলে আমরা আশা করিনি।’
বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল জানায়, আগস্টের শেষে মাত্র অর্ধেক কারাখানা মুনাফায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, জুলাইয়ে যা ছিল দুই-তৃতীয়াংশ।
চীনের আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, আগস্টে দেশটির বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার টনে।
মাইস্টিলের বিশ্লেষকরা জানান, বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণেই মূলত মোট দেশীয় উৎপাদন কমেছে। মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশই আসে এসব কারখানা থেকে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীন ৭১ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চীন থেকে ভারতের পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি বেড়ে পাঁচ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারি নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত চার মাসে চীন ছিল ভারতে দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত রফতানিকারক। এ সময় দেশটি ভারতে ছয় লাখ টন ইস্পাত রফতানি করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশ বেশি।
এ চার মাসে ভারত সব মিলিয়ে ২০ লাখ টন পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি এবং ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। দেশটি মূলত ভারতে কোল্ড রোলড কয়েল বা শিট রফতানি করে।










