নীল আকাশ ও ক্যানোলা ফুল থেকে শুরু করে অন্তহীন উপকূলীয় রাস্তা। এমন মনোরম দৃশ্যের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার হাওয়াই নামে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপ। দেশীয় ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য এটি একটি ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। তবে এসব পর্যটকের জন্য দ্বীপটির পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, এমন কারণ দেখিয়ে ভ্রমণকারীদের জন্য ফি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্বীপটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দ্য কোরিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিক পর্যটকের ফলে দ্বীপটি বড় ধরনের পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা।

প্রতিবেদন বলছে, জেজুতে প্রবেশের জন্য একজন পর্যটককে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ১৭০ ওন বা ৮ ডলার ২০ সেন্ট করে দিতে হবে। দ্বীপে থাকতে হলে প্রতি রাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ ওন খরচ হবে। যারা গাড়ি বা মিনিভ্যান ভাড়া নেবেন তাদের জন্য প্রতিদিন যথাক্রমে ৫ হাজার ওন এবং ১০ হাজার ওন চার্জ করা হবে। বাস ভাড়া নেয়া পর্যটকদের ভাড়ার ৫ শতাংশ চার্জ করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হলে, এর মাধ্যমে প্রথম বছরের পর সরকারি কোষাগারে ১৪ হাজার ১০০ কোটি ওন এবং দ্বিতীয় বছরে অন্তত ১৬ হাজার ৭০০ কোটি ওন যোগ করবে।

সিউল ইকোনমিক ডেইলির তথ্য বলছে, পদক্ষেপটির ব্যাপারে সমগ্র দক্ষিণ কোরিয়ানরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেনি। কিছু নেটিজেন অনলাইনে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান ‌এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাড়াবাড়ি। এদিকে আনা লিম নামের এক নারী পর্যটক জানিয়েছেন, ফিগুলো যুক্তিসংগত। তিনি ২০২৪ সালে জেজুতে তার সফর পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিমাণের দিক দিয়ে এটি খুবই সামান্য। সত্যি বলতে, যদি এটি জেজু দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হয় তাহলে আপত্তিটা কোথায় বুঝতে পারছি না।’

জেজু ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে ১ কোটি ৩০ লাখেরও অধিক পর্যটক দ্বীপটিতে এসেছেন। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় যা সংখ্যা ১৬ শতাংশ বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময় আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ৯৯ শতাংশের বেশি দেশীয় পর্যটক ছিলেন।

বছরের পর বছর ধরে, পর্যটকের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপটি আবর্জনা ও পয়োনিষ্কাশণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপে পড়েছে। এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে এ ফি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। ২০২২ সালে দ্য হেরাল্ড ইনসাইট জানিয়েছে, দ্বীপটি থেকে অত্যধিক বর্জ্য সমুদ্রে যাচ্ছে। এটি দ্বীপের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এবং এর বাসিন্দাদের জীবিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।