দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য সারা দেশে ১৫ দিনব্যাপী অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। যার মাধ্যমে পরিবার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক আয়-ব্যয়, মূলধন, ঋণ, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আয়ের মতো ব্যক্তিগত তথ্য পেতে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের। ভ্যাট-ট্যাক্সের ভয়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আয় কম দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ও দোকানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন হাসমত উল্লাহ। আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) এখানকার স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের পরিস্থিতি দেখতে গেলে এ তথ্য সংগ্রহকারী জানান, তথ্য জানতে চাইলে প্রথমেই মানুষ প্রশ্ন করে তথ্য দিলে তারা কোনো সুবিধা পাবে কিনা। সুবিধা পাবে না বলা হলে তারা তথ্য দিতে আগ্রহী হয় না। পরে নানা কৌশলে তাদেরকে তথ্য প্রদানে রাজি করাতে হয়। কিন্তু সব সময় প্রকৃত তথ্য দিতে চায় না তারা। ছোট দোকানগুলো থেকে আয়ের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলেও কিছুটা বড় দোকানে দেখা যায় বিক্রেতারা ব্যস্ত থাকে। আবার মাসে তিন লাখ টাকা আয় হয়, এমন দোকান থেকেও বলা হয় মাসিক আয় ২০ হাজার টাকা। সরকারি ভ্যাট কিংবা ট্যাক্সের ভয়ে তারা এমনটা করেন বলে এ যুবক জানান।

দোকানের আয় বেশি সেটা কীভাবে জানেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে ৩০০ ফিট এলাকায় বড় খাবারের দোকানগুলোতে বিকাল থেকে প্রচুর ভিড় জমে যায়। ঢাকা থেকে লোকজন আসে। আমরা একই এলাকার মানুষ। তাই এসব দেকানের আয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে।’

ভুল তথ্য দিলে সেখানে করণীয় কী থাকে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তখন আমরা অনুমান করে কাছাকাছি একটি আয়ের সংখ্যা তালিকাভুক্ত করি। যাতে মোটামুটি প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। মানুষ তার সমস্যার কথা বেশি বললেও সুবিধা বা আয় নিয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেও বলে জানান তিনি। আবার নানা ধরণের ঋণের কিস্তির কথা বলে থাকে মানুষজন। দিনে ১৫-১৬টি ইউনিটের তথ্য সংগ্রহ করছেন এ তথ্য সংগ্রহকারী। ১৫ দিনে তাকে ১৪৫টি ইউনিটের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

গাজীপুর জেলায় শুমারি সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন মুর্শিদা ইয়াসমিন। তথ্য পেতে অনেক সময় সরাসরি আয় না জিজ্ঞেস করে নানা কৌশলে জানতে চাওয়া হয় বলে তিনি জানান। মূলত করের জালে আবদ্ধ হওয়ার ভয়েই তথ্য পেতে সমস্যা হয় বলে স্বীকার করেন এ পরিসংখ্যান কর্মকর্তা। তার অধীনে ৭৬৯ জন গণনাকারী কালিগঞ্জ এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রধানত ৩০ ধরণের প্রশ্নের মধ্যে আয়-ব্যয়, ঋণ, বিদেশী বিনিয়োগ এবং বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো সুবিধা আছে কিনা-তাও জানতে চাওয়া হচ্ছে।

সারা দেশে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। এ শুমারিতে ৯৫ হাজার তথ্য সংগ্রাহক যুক্ত রয়েছেন, যারা ট্যাবের মাধ্যমে ক্যাপি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছেন। বিবিএস প্রতি ১০ বছর পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য এমন শুমারি পরিচালনা করে থাকে। যার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে আনা হবে। এবার শুমারির মাধ্যমে বিদেশী কর্মীদের সংখ্যা, তাদের কর্মস্থল, পদ ও নারী-পুরুষের আনুপাতিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

অর্থনৈতিক শুমারির উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। শুমারির সময় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা হয় বলে তিনি জানান। সেক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়। আবার সেনাবাহিনীর ডিও লেটার নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী মাঠে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা ও ডিও লেটার নিয়ে বিভিন্ন প্রবেশ সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।