করোনা মহামারী শুরুর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে চিড় ধরে। এর জের ধরেই অবনতি দেখা দেয় বাণিজ্যিক সম্পর্কেও। তবে আকরিক লোহার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েনি বললেই চলে। ধাতব পণ্যটির ক্ষেত্রে অন্যবারের মতো গত বছরও দেশটির সবচেয়ে বড় বাজার ছিল চীন। সম্প্রতি সাপ্তাহিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে শিপব্রোকার বাঞ্চেরো কস্তা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া মোট আকরিক লোহা রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই চীনে সরবরাহ করেছে। এছাড়া চীনের বাজারে পণ্যটির চাহিদা কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়া সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ছিল। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ সময় আকরিক লোহা আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে।
পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ জানায়, গত বছরের ১২ মাসে বিশ্বজুড়ে ১৫৫ কোটি ৪১ লাখ টন আকরিক লোহা লোডিং করা হয়েছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সমুদ্রপথে বৈশ্বিক আকরিক লোহা আমদানির ৬৭ শতাংশই পৌঁছেছে চীনের মূল ভূখণ্ডে। যদিও দুর্বল চাহিদার কারণে দেশটির আমদানি এক বছরের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি ৩৬ লাখ টনে।
শিপব্রোকার বাঞ্চেরো কস্তা জানায়, বিশ্বের বাকি অঞ্চলগুলোয় আমদানি বড় পরিসরে বেড়েছে। এর মধ্যে গত বছর জাপান ৯ কোটি ৮৬ লাখ টন আকরিক লোহা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমদানি ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। দক্ষিণ কোরিয়া আমদানি করেছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। তাইওয়ানে আমদানি ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। তবে মালয়েশিয়ায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৪ লাখ টনে।
রফতানির দিক থেকে গত বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক রফতানির ৫৬ দশমিক ৮ শতাংশই সরবরাহ করেছে দেশটি। গত বছর সব মিলিয়ে ৮৮ কোটি ২৫ লাখ টন আকরিক লোহা রফতানি করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ২০২০ সালের তুলনায় রফতানি কিছুটা কমেছে। এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক ব্রাজিলে পণ্যটির রফতানি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এ সময় দেশটি ৩৪ কোটি ৭৯ লাখ টন আকরিক লোহা রফতানি করে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
তথ্য বলছে, গত বছরও অস্ট্রেলিয়ার প্রধান আকরিক লোহা রফতানির গন্তব্য ছিল চীনের মূল ভূখণ্ড। মোট রফতানির ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশই চীনে পাঠানো হয়েছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে চীনে অস্ট্রেলিয়ার আকরিক লোহা রফতানি কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ৪৮ লাখ টনে। তবে জাপানে দেশটির রফতানি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬৯ লাখ টনে।










