ফ্রান্সে ২০২৪ সালে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যদিও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল দেশটিতে জিডিপির ৬ শতাংশ ঘাটতি থাকতে পারে। অর্থনীতির অবস্থা মোটামুটি ভালো হলেও এটি সরকার ও অর্থনীতির জন্য ‘একেবারে স্বস্তির বিষয় নয়’ বলে জানিয়েছেন ফরাসি অর্থমন্ত্রী। খবর ইউরো নিউজ।
২০২৪ সালে ফ্রান্সে বাজেট ঘাটতি এসে পৌঁছেছে ১৬ হাজার ৯৬০ কোটি ইউরোয়। পূর্বাভাসের চেয়ে ঘাটতি কম থাকার কারণ হিসেবে রাজস্ব বৃদ্ধি ও আগের বছরের তুলনায় ব্যয় কম হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি পরিসংখ্যান অফিস ইনসে। মে মাসে আয়-ব্যয়ের এ হিসাব ফের সংশোধন করা হবে।
ফ্রান্স ইন্টার রেডিওর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী এরিক লম্বার্ড জানান, গত বছরের শেষে মিশেল বার্নিয়েরের সরকার খুব কম ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় প্রত্যাশার তুলনায় রাজস্ব কিছুটা বাড়ায় ঘাটতি কমেছে। তবে এ পরিস্থিতিকেও স্বস্তিদায়ক বলে মানছেন না লম্বার্ড। তিনি বলেন, ‘ঘাটতির এ অংক "ভালো খবর নয়, যতক্ষণ না আমরা ঘাটতি ও ঋণ সমস্যা সমাধান করছি, ততক্ষণ ঝুঁকির মধ্যে আছি।’"
ইউরোজোন এলাকায় বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ শতাংশ। সে হিসেবে ফ্রান্সে ঘাটতি ব্লক সদস্যদের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ। ২০২৯ সালের মধ্যে ইউরোজোনের গড় ঘাটতিতে ফিরতে চায় ফ্রান্স। সে লক্ষ্যে দেশটির সরকার ২০২৫ সালের ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।
দেশটি ব্লকের সর্বোচ্চ ঋণ অনুপাতের সঙ্গেও লড়াই করছে। ২০২৪ সালে ফরাসি সরকারি ঋণ জিডিপির ১১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০২৪ সালে বাজেট ঘাটতির কম হওয়ার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, বছরটিতে রাজস্ব ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর যা ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। এদিকে ২০২৩ সালে ফ্রান্সের সরকারি ব্যয় বেড়েছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পরবর্তী বছরে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতি, পেনশন ব্যয় ও বেকারত্ব ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে।
দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশঙ্কার ফলে বর্তমান প্রশাসন সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তাই পরবর্তী বাজেট নির্ধারণেও চাপের মুখে পড়েছে সরকার। এ চাপের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এ পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সামাজিক ক্ষেত্র ও বাজেটসংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে একটি পাবলিক ফাইন্যান্স অ্যালার্ট কমিটি তৈরি করছে সরকার।
ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশোধিত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুসারে, ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ অর্থনীতি চলতি বছর দশমিক ৭ শতাংশ সম্প্রসারণ হবে, যা আগের বছরের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় কম। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী এরিক লম্বার্ড জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক ফরাসি অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা" রয়েছে। উল্লেখযোগ্য আর্থিক সমস্যার কারণে ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তুত করা ‘দুঃস্বপ্ন’" হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র সোফি প্রাইমাস।










