লকডাউন, বিধিনিষেধ, ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ব্যয়সহ বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভিয়েতনামে কফি সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। কারণ অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার দেশটিতে কফির ভালো ফলন হয়েছে। তবে দেশটির কফি রফতানি খাত এখনো জাহাজীকরণ ব্যয় বৃদ্ধি, কনটেইনার সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনামে সবচেয়ে বেশি কফি আবাদ হয় সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস অঞ্চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অঞ্চলটিতে পানীয় পণ্যটির আবাদ চাষ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কফি বেল্টটির অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনামের ডাক লাক প্রদেশের একজন ব্যবসায়ী জানান, চলতি বছর আবাদকৃত কফির ৮০ শতাংশ এরই মধ্যে সংগ্রহ করেছেন কৃষকরা। বর্তমানে তারা এসব কফি বিন শুকিয়ে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষকরা প্রতি কেজি কফি ৪০ হাজার ৩০০ থেকে ৪২ হাজার ডংয়ে (১ ডলার ৭৬ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৮৩ সেন্ট) বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪০ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে ৪১ হাজার ডং।
রোবাস্তা কফি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভিয়েতনাম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশটিতে এবার কফি উৎপাদন বাড়লেও বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভিয়েতনামের শুল্ক বিভাগের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১১ মাসে দেশটি ১৪ লাখ টন কফি রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এদিকে কফি বিক্রি বাড়াতে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের আকর্ষণীয় ছাড় দিচ্ছেন। আগামী বছরের মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে ব্ল্যাক ও ব্রোকেন গ্রেড ২ রোবাস্তা কফি ৫ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি টনে ৪৩০-৪৪০ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪০০ ডলার।
ডাক লাকের ব্যবসায়ী বলেন, ছাড়ের কারণে এবার দেশীয় বাজারে প্রতি কেজি কফির দাম দাঁড়াবে প্রায় ৪৫ হাজার ডংয়ে। তবে সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় যথাযথভাবে কফি বিন পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্রেতাদের মাঝেও বেশি দামে কফি কিনায় অনীহা দেখা গেছে।










