জ্বালানি খাতে নিজেদের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বাড়াতে চায় সৌদি আরব ও জাপান। উভয় দেশই কার্বন নিঃসরণ কমাতে ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খবর আরব নিউজ।

দেশ দুটির অনেক ক্ষেত্রেই অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। যার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে খনিজ উন্নয়ন ও খনি খনন। উভয় দেশই পৃথিবীর দুর্লভ সম্পদে আরো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যা বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ।

ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈশ্বিক চাপের মুখে ইভির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সেক্টরের এ খাতে তাদের যৌথ আগ্রহ বেড়েছে। ১৬ জুলাই জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জেদ্দার রিটজ কার্লটনে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠককালে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ঘোষণা আসে।

সেখানে তারা আগে সই হওয়া ২৬টি অর্থনৈতিক চুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের সূচনা করেন। চুক্তির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা, খনি খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের ক্ষেত্র।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানায়, ফুমিওর সফরের সময় সৌদির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান উভয় দেশের ৫০ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে কীভাবে সৌদি ও জাপান শক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হতে পারেন সে বিষয়ে জোরারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘জোটটি সৌদির ভিশন ২০৩০ এজেন্ডায় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজেন্ডার আওতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, তেলবহির্ভূত ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নানা সামাজিক পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে।’

জাপান অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে কতটা জরুরি উল্লেখ করে সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ বৈঠকে বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কতটা শক্তিশালী তার সাক্ষ্য দেয় এ বৈঠক। ভিশন ২০৩০ চালু হওয়ার পর সৌদির মোট দেশজ উৎপাদন এখন ৬৬ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।’ সৌদি আরবের সঙ্গে জাপানের জ্বালানি সম্পর্কের উন্নতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মূলত অপরিশোধিত তেলের ক্রেতা ও সরবরাহকারীর ভিত্তিতেই জাপান-সৌদির সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, যা বর্তমানে আরো শক্তিশালী। দেশ দুটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে হাইড্রোজেন, ফুয়েল অ্যামোনিয়া ও কার্বন পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে দুটি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল।

পুনঃব্যবহারযোগ্য সার্কুলার অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে উভয় দেশ জলবায়ু পরিবর্তন নীতির ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ও প্যারিস চুক্তি মেনে চলে।

জাপান ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণ পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে। অন্যদিকে সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ ভিশন ২০৩০ এজেন্ডার আওতায় তেলবিহর্ভূত ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে বহু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

একইভাবে খনি খনন ও খনির উন্নয়ন উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের পণ্য বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো আরব নিউজকে বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে দুর্লভ খনিজ ধাতুগুলো অপরিহার্য কাঁচামাল। এগুলো জ্বালানি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতুগুলোর সঙ্গে এগুলো বায়ু টারবাইন, সৌর প্যানেল, বিদ্যুচ্চালিত যান ও ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।’

স্টাউনোভো যুক্তি দিয়েছেন, বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে বিভিন্ন শক্তির উৎস সন্ধানে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। তিনি মনে করেন, দুর্লভ উপাদানের প্রাথমিক সরবরাহকারী চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে এবং বিকল্প সরবরাহকারী সংখ্যা বাড়াতে খনি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন খনন খাতে বৈচিত্র্য আনা দরকার।