যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যগত বিষয় ঘিরে বেশ সচেতন ছিলেন মিশেল ওবামা। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লেটস মুভ ক্যাম্পেইনের, যা শিশুদের শৈশবকালীন স্থূলতা অবসানের লক্ষ্যে বেশকিছু কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাবেক এ ফার্স্ট লেডি এবার শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি নিয়ে এসেছেন। খবর সিএনএন।
মিশেল ওবামার নতুন কোম্পানির নাম প্লিজি। বুধবার সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মিশেল ওবামা শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর কিন্তু মজাদার স্বাদের খাদ্য ও পানীয় সরবরাহকারী এ কোম্পানির বিষয়ে ঘোষণা দেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ফিউচার অব এভরিথিং ফেস্টিভ্যালের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমি শিখেছি যে শিশুদের স্বাস্থ্যগত বিষয়ে আপনি যদি চলমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে চান, তবে বাইরে থেকে কাজ করতে পারবেন না। আপনাকে বিষয়টির গভীরে যেতে হবে। আপনাকে খাদ্য ও পানীয় শিল্পকে পরিবর্তনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমি এ ধরনের একটি কোম্পানি চালুর বিষয়ে ঘোষণা দিতে পেরে গর্বিত, যা শুধু উন্নতমানের খাদ্য সরবরাহ নয়, বরং উচ্চপর্যায় থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সমগ্র খাদ্য শিল্পর পরিবর্তন ঘটাবে।’
হাইতিয়ান শব্দ প্লিজি অর্থ আনন্দ। কোম্পানির প্রথম পানীয় হিসেবে শিশুদের জন্য ফ্রুট জুস বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারে লভ্য অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত ফলের রসের তুলনায় এতে ৭৫ শতাংশ কম চিনি রয়েছে।
এরই মধ্যে বেশকিছু প্রধান বিক্রয় কেন্দ্রে জুসটি পাওয়া যাচ্ছে। একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসছে বছরগুলোয় বিভিন্ন স্ন্যাকসসহ আরো কিছু পানীয় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যাতে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনার পাশাপাশি শিশুদের অভ্যাসসুলভ মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহ কমানোর দিকে মনোযোগ দেয়া হয়েছে।
প্লিজিতে সাবেক এ ফার্স্ট লেডি পুষ্টি সংস্থার সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটি মূলত একটি পাবলিক বেনিফিট কোম্পানি হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে শিশুদের জন্য খাদ্য ও পানীয় তৈরি এবং বাজারজাত করে তার জন্য উচ্চতর মাননির্ধারণের লক্ষ্য নিয়েও কাজ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ফার্স্ট লেডি হিসেবে ওবামা লেটস মুভ নামে যে ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাতে শিশুদের শৈশবকালীন স্থূলতা অবসানের লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়। এটির অন্যতম অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২০১০ সালে ‘হেলথি, হাঙ্গার-ফ্রি কিডস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন, যা স্কুলে শিশুদের মধ্যাহ্নভোজের খাদ্যতালিকায় নির্দিষ্ট পুষ্টিমান নির্ধারণ করে দিয়েছিল।
সিএনএনের আগের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, ২০০৪-২০১২ সালের মধ্যে দুই-চার বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে স্থূলতার ব্যাপকতা কমেছে ৪৩ শতাংশ। মিশেল ওবামার অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পুষ্টিসম্পর্কিত স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে। শিশুরা অত্যধিক চিনি গ্রহণ করছে।










