পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি দল কোম্পানিটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে কারখানা বন্ধ পেয়েছে। এ কারণে তারা কারখানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারেনি এবং তাদের পরিদর্শন কার্যক্রমও পরিচালনা করতে পারেনি।

তথ্যানুসারে, গত দুই হিসাব বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ ও ২০২০-২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি নর্দান জুট। পাশাপাশি অনিরীক্ষিত প্রান্তিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করছে না কোম্পানিটি। সর্বশেষ ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৩ টাকা ২৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৭ টাকা ১৫ পয়সা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি পাট খাতের স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটি। আগের হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৫ শতাংশ নগদ ও ২০১৪-১৫ হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।

নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং ১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ লাখ ৪২ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ১৫ দশমিক শূন্য ৯ ও বাকি ৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২১২ টাকা ৮০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৯১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩৫৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

প্রসঙ্গত, অবসায়ন প্রক্রিয়ায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডের পরিচালকদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নর্দান জুটের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। নর্দান জুট ও পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান ছিলেন উজ্জ্বল কুমার নন্দী। তাছাড়া নর্দান জুটের পরিচালক অমিতাভ অধিকারী প্রশান্ত কুমার হালদারের আত্মীয়। মূলত উজ্জ্বল কুমার নন্দীর মাধ্যমে নর্দান জুট ও পিপলস লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল পিকে হালদারের কাছে।