পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া হাইকোর্টের নির্দেশনার পর নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ২১ মে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কোম্পানি বিষয়ক একটি মামলায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত নির্দেশনা দেয়। ১১ এপ্রিল এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত ওয়ালটন হাই-টেকের পরিচালনা পর্ষদের ৫০তম সভায় একীভূতকরণের পরবর্তী সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

কোম্পানির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারধারীদের অনুমোদনের জন্য আগামী ৪ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ মে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় পাওনাদারদের সম্মতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। তবে শেয়ারধারী ও পাওনাদারদের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর একীভূতকরণ কার্যকর হবে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ওয়ালটন হাই-টেক ও ওয়ালটন ডিজি-টেকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। একই দিনে পরিচালনা পর্ষদের ৪৬তম সভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, একীভূতকরণ বাস্তবায়িত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের পণ্যের পরিধি বাড়বে। বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড, বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলসহ ১২৩ ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশে মোবাইল ফোন ও প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড তৈরির কারখানাও স্থাপন করেছে। এসব পণ্য যুক্ত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসা সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।

এ একীভূতকরণকে দেশের ইলেকট্রনিকস ও উচ্চ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে ওয়ালটন ডিজি-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা। নিট আয় ছিল ৯১৫ দশমিক ৮০ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী মুনাফা ৪ দশমিক ৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ওয়ালটন হাই-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০২ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। তাদের নিট আয় ছিল ৭ হাজার ৮২ দশমিক ২৫ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী মুনাফা ১ হাজার ৩৬ দশমিক ৬২ কোটি টাকা।

বর্তমানে ওয়ালটন হাই-টেক ফ্রিজ, এসি ও টেলিভিশনের মতো বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ও রফতানি করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওয়ালটন ডিজি-টেকের সঙ্গে একীভূত হলে ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসা আরো বিস্তৃত হবে এবং বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেকের শক্তিশালী ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডিজি-টেকের ব্যবসাও মজবুত হবে।

—বিজ্ঞপ্তি