বাংলাদেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া এটিই সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা। ব্র্যাক ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল জানানো হয়, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত ১২ বছর মেয়াদি এ তহবিলের মাধ্যমে দেশের গ্রিন ট্রানজিশন বা পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। এটি দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই বিনিয়োগ আরো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে, যা বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে উত্তরণ ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্র্যাক ব্যাংক বলছে, তহবিলটি মূলত দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্কুলার ইকোনমি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি সাশ্রয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে বিনিয়োগে সহায়তা করবে। এ দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ফলে খাতটি আরো পরিবেশবান্ধব, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুযোগ পাবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মোট তহবিলের মধ্যে ৪০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করা হবে আড়াই হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোগে। এ অর্থ আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা, বর্জ্য হ্রাস, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নানা উদ্যোগ নেয়া হবে, যা জলবায়ু রক্ষা ও পরিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। এর আওতায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব ভবন, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক দুই ও তিন চাকার যানবাহন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব রান্নার চুলা ও গৃহস্থালির পানি ফিল্টার প্রযুক্তিসহ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ করা হবে। অবশিষ্ট ২০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করা হবে বড় আকারের প্রকল্পে। এর লক্ষ্য তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইলসহ দেশের রফতানিমুখী শিল্পগুলোয় টেকসই ও সার্কুলার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এ বাজারে পরিবেশবান্ধব ও স্বচ্ছ সাপ্লাই চেইনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য এমন দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন ফাইন্যান্স বা পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। তহবিলটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক টেকসই মানদণ্ড পূরণে সহায়তা করবে, যা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

অর্থায়ন প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেলসোমিনা ভিলিওত্তি বলেন, ‘কীভাবে ইউরোপীয় অর্থায়ন আরো বেশি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে—এ চুক্তি তারই প্রমাণ। ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, সার্কুলার সলিউশন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে সাহায্য করছি।’ একই সঙ্গে এটি টেকসই বাণিজ্য ও জলবায়ু রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তর অঙ্গীকারকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে আসছি। ইআইবির সঙ্গে এ অংশীদারত্ব দেশের শিল্প খাতের ভ্যালু চেইনে পরিবেশবান্ধব এবং সার্কুলার বিনিয়োগের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ অর্থায়নের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক টেকসই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হবে।’ এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।