নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় ভারতে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। ফলে বছরের শেষে ভারতে চলছে বিয়ের ধুম। বিয়ের মৌসুমকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ আমদানিতে উল্লম্ফন দেখা গেছে। চলতি বছর মূল্যবান ধাতুটির আমদানি ছয় বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খবর দ্য প্রিন্ট।

তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত ভারতে প্রায় ২৫ লাখ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ হার কমার কারণে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছর শেষে ভারত মেতে উঠেছে বিয়ের উৎসবে। কভিড-১৯ মহামারীতে প্রায় দুই বছর বিয়ের উৎসব স্থগিত হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদাও ছিল পড়তির দিকে। এতদিনে এসে স্বর্ণকারদের ভাগ্য ফিরেছে।

স্বর্ণ ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা আবারো ক্রমাগত বাড়ছে। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে স্বর্ণ আমদানিও। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) তথ্য বলছে, গত বছর ৩৫০ টন স্বর্ণ আমদানি করেছে ভারত। এ বছর শেষ প্রান্তিকের পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, উৎসব মৌসুমকে ঘিরে দেশটিতে স্বর্ণ আমদানি ৯০০ টনে পৌঁছতে পারে। ধারণা সত্যি হলে ছয় বছরে ভারত রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি করবে এবার।

মুম্বাইভিত্তিক সংস্থা মেটাল ফোকাস লিমিটেডের পরামর্শক চিরাগ শেঠ এ বিষয়ে বলেছেন, বর্তমানে ভারতের বাজারে স্বর্ণের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা বাজারদরে প্রভাব ফেলেনি। উল্টো সহনীয় মাত্রায় দাম কমেছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটি ক্রয়ের পরিমাণ বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে স্বর্ণ আমদানি আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।

সাধারণত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ভারতে সর্বোচ্চ স্বর্ণ বিক্রি হয়। ডব্লিউজিসির পূর্বাভাস বলছে, গত এক দশকের সর্বাধিক বিক্রি হবে চলতি বছরের শেষ তিন মাসে। লক্ষেৗভিত্তিক লালা যুগল কিশোর জুয়েলার্সের পরিচালক তান্যা রাস্তোগি বলেন, গত বছর করোনা প্রতিরোধে নেয়া নানা বিধিনিষেধের কারণে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আগামীতে আবারো মহামারীর ভয় রয়েছে দম্পতিদের মাঝে। তাই এখনই বিয়ের আয়োজন সেরে নিচ্ছেন তারা। ফলে দেশটিতে চলছে সাজ সাজ রব। এবার ক্রেতাদের মাঝে পাথরখচিত অলংকারের তুলনায় ভারী স্বর্ণের গয়নার চাহিদা বেশি।