চীনে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। দেশটির বিগলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টানা দুই মাস অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত আছে। খবর রয়টার্স।

চীন বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক। অ্যালুমিনিয়াম বিগলনের জন্য দেশটির ইউনান রাজ্য প্রসিদ্ধ। ঘাটতি রোধে এ রাজ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করেছে দেশটির সরকার।

চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, গত মাসে দেশটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। মে মাসে উৎপাদন করা হয়েছিল ৩৩ লাখ ২০ হাজার টন। সে হিসাবে উৎপাদন কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যবহারিক ধাতুটির উৎপাদন বেড়েছে। এ সময় চীন সব মিলিয়ে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যবহারিক ধাতুটির দাম এক দশকের সর্বোচ্চে উঠে আসায় বছরের প্রথমার্ধজুড়ে উৎপাদনে এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রদেশ ইউনানে দেশটির বেশির ভাগ ধাতু বিগলন কেন্দ্র অবস্থিত। হাইড্রোপাওয়ার রিসোর্সের কারণে অঞ্চলটি বিগলনকারীদের কাছে জনপ্রিয়। গত মাসে অঞ্চলটিতে মারাত্মক খরা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করে দেয়া হয়। এতে উৎপাদনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এদিকে চলতি সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দস্তা ও টিন উৎপাদনে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে খরার প্রভাব কমতে শুরু করায় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরোপিত বিধিনিষেধ দ্রুতই উঠিয়ে নেয়া হতে পারে।

অ্যালুমিনিয়াম-বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এজি চায়নার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল অ্যাডকিনস বলেন, বিদ্যুতের পাশাপাশি তীব্র পানি সংকটের কারণে জুনে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ব্যাহত হয়। তবে এ সংকট অল্প সময়ের মধ্যেই কেটে যাবে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে সক্ষম হবে চীন।

তিনি আরো বলেন, চীনে ধাতবপণ্যের বাজার চড়া। মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টেনে ধরতে সরকার অ্যালুমিনিয়ামসহ অন্যান্য ধাতুর দেশীয় মজুদ উন্মুক্ত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় মজুদ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে ধাতুটির দাম আরো বেড়েছে।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস আরো জানায়, জুনে চীনের ১০টি নন-ফেরাস ধাতু (যে ধাতু লৌহঘটিত নয়) উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টনে। বছরের প্রথমার্ধে এসব ধাতু উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন।