নভেল কারোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত।
প্রতিদিনই ভারি হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।
নতুন করে লকডাউনসহ কঠোর বিধিনিষেধে আর্থিক ও শিল্প খাতের কার্যক্রম স্থবির।
এর মধ্যেও বেড়েছে ভারতের কয়লা উত্তোলন।
এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বেসরকারি খাত।
তথ্যসেবা সংস্থা গ্লোবাল ডেটার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৈশিক কয়লা উত্তোলনে ভারতের অবস্থান পঞ্চম।
তবে বিশ্ববাজারে কয়লার অন্যতম বড় ক্রেতা এই দেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া দেশটিতে সর্বাধিক কয়লা সরবরাহ করে।
যদিও আমদানি কমিয়ে ২০২৪ সালের মধ্যে কয়লা খাতে স্বনির্ভর হতে চায় ভারত।
এক্ষেত্রে বড় পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় কয়লা উত্তোলক কোল ইন্ডিয়ার।
গ্লোবাল ডেটার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কয়লার বিপরীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে মনোযোগী হচ্ছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো।
কার্বণ নিঃসরণ কমানোর অংশ হিসেবে ভারতও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে।
তা সত্ত্বেও এ বছর দেশটির কয়লা উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাবে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ডেটা।
গ্লোবাল ডেটার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ভারতের কয়লা উত্তোলন ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে।
গত বছর উত্তোলনে প্রবৃদ্ধি এসেছিল ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
দেশটি গত বছর ৭৭ কোটি ৭০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করে।
এ বছর উত্তোলন বেড়ে ৮২ কোটি ৭৮ লাখ টনে উন্নীত হবে।
কয়লা খনিজে সমৃৃদ্ধ হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ভারত প্রতি বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রচুর কয়লা আমদানি করে।
দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি দ্রুততর করতে আমদানি কমিয়ে কয়লায় স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির।
এ লক্ষ্যে ভারত সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।
গ্লোবাল ডেটার খনিজ সম্পদবিষয়ক বিশ্লেষক ভিনিথ বাজাজ বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের কয়লা উত্তোলনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির চক্রবৃদ্ধি হার ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।
এ সময় উত্তোলনের পরিমাণ ১২০ কোটি টনে পৌঁছবে বলে মনে করছে গ্লোবাল ডেটা।
এক্ষেত্রে ভারত সরকারের উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা ১০০ টন।
তবে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলমান কভিড পরিস্থিতি বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ভারতে করোনার নতুন ধরন আঘাত হানে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ জোরালো হয়েছে।
ফলে দেশজুড়ে নতুন করে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এতে দেশটির প্রধান প্রধান কয়লা উত্তোলন কেন্দ্র, বিশেষ করে ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানা রাজ্যে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তবে আগামী মাসগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় এ বছরের এপ্রিলে উত্তোলন স্বল্পমাত্রায় বাড়ে।
বছরের শেষ নাগাদ প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকবে।
বাজাজ বলেন, ভারতে ক্রমেই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশটি কয়লার ওপর নির্ভরশীল।
গত বছর ভারতের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭৩ শতাংশই এসেছে কয়লা থেকে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লানির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনছে দেশটি।
জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বণ নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফলে এ সময়ের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে গ্লোবাল ডেটা।










