নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় সংঘাত এবং সহযোগিতা’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিস্টিঙ্গুইশড ওয়েবিনার সিরিজ’ এর অংশ হিসেবে আয়োজিত এ পর্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আগ্রহীরা অংশ নেন।
ওয়েবিনারে মূল বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের পাবলিক পলিসি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন রেনে শর্ট। তিনি ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক শাসন বিষয়ে গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষণা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক নরম্যান কে সোয়াজো।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে বহুমেরুত্বের প্রবণতা বাড়ছে। ইংরেজ, ইউরোপীয় ও মার্কিন শক্তির উত্থান-পতনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে।
মূল বক্তৃতায় অধ্যাপক রেনে শর্ট বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন মার্কিন বৈশ্বিক প্রাধান্য নতুন একটি ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোর পথ তৈরি করেছে। তার মতে, এই কাঠামো মূলত চীনের আকাঙ্ক্ষিত ‘বৈশ্বিক চীন-কেন্দ্রিকতা’, ইউরোপের পুনর্সামরিকীকরণ এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের উত্থানের দ্বারা চিহ্নিত। বৈশ্বিক এ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দেশগুলোতে"নব বিপ্লবী চেতনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

ওয়েবিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মূল বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের পাবলিক পলিসি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন রেনে শর্ট
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, শুল্ক নীতি এবং সামরিক জোটের পুনর্গঠন বিশ্ব শক্তির কাঠামো পাল্টে দিচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও মহামারির মতো সংকট রাষ্ট্রগুলোকে সহযোগিতার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতের বিশ্বে একক আধিপত্যের সম্ভাবনা কম। বরং প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান শক্তিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা, কৌশলগত ভারসাম্য ও বাস্তববাদী কূটনীতিই নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি গড়বে।
ওয়েবিনারের শেষভাগে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় জোটের পরিবর্তন ও বৈশ্বিক দক্ষিণের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অধ্যাপক রেনে শর্টের সঙ্গে আলোচনা করেন।
—বিজ্ঞপ্তি










