চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভারতের চা রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। ইউনাইটেড প্লান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাউদার্ন ইন্ডিয়া (ইউপিএএসআই) সম্প্রতি এ তথ্য জানায়।
অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ভারতের চা রফতানি দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ কেজিতে।
উত্তর ভারতের প্রদেশগুলো থেকে রফতানি করা হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার কেজি, যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। তবে দক্ষিণের প্রদেশগুলোয় থেকে রফতানি ২ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার কেজিতে নেমেছে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার কেজি।
ইউপিএএসআইয়ের জেনারেল সেক্রেটারি সঞ্জিত নায়ার বলেন, ‘শুধু ভারত নয়, কেনিয়া, চীন ও শ্রীলংকাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের চা রফতানিই নিম্নমুখী।’
অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, বছরের প্রথমার্ধে দেশটিতে চা উৎপাদন দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ২৭ লাখ কেজিতে। ভারত উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ চা রফতানি করে।
চলতি বছর ভারতের চা রফতানি ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির রফতানিকারকরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপ ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতাই এর মূল কারণ। চলতি বছর রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরাতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির রফতানিকারকরা। গত বছর ভারতের চা রফতানি ১৮ শতাংশ বেড়েছিল।
২০২২ সালে শ্রীলংকায় নিম্নমুখী উৎপাদনে লাভবান হয়েছিল ভারত। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির পিছিয়ে পড়ার সুযোগে ভারত রফতানি বাড়াতে সক্ষম হয়। তবে এ বছর শ্রীলংকার চা রফতানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে রফতানি কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণেও রফতানি কমতে পারে।
ভারতীয় চা রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া বলেন, ‘ভারতীয় চায়ের প্রথাগত বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান। দেশটির সঙ্গে নতুন রফতানি চুক্তি স্বাক্ষরসংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। ছয় মাস ধরে এ সমস্যা চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০ কোটি কেজি চার রফতানির লক্ষ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। চলতি অর্থবছর পানীয় পণ্যটির রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল থেকে সস্তা দামের চা আমদানিও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত সব মিলিয়ে ২২ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা রফতানি করে।
বাগরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এসএস বাগরিয়া বলেন, ‘চা রফতানিকারকরা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।’ পরিস্থিতির উন্নতি হলে রফতানি আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এসএস বাগরিয়া বলেন, ‘গত বছর আমরা রফতানিতে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিলাম এ বছর তা সম্ভব হবে না। তবে এ বছর ২০২২ সালের সমপরিমাণ রফতানি হলেও আমরা খুশি। চলতি বছর চায়ের উৎপাদন ২০ শতাংশ কমতে পারে। এল নিনো পরিস্থিতিতে উৎপাদন আরো নিম্নমুখী হয়ে পড়তে পারে।’










