দিনাজপুরে হিলি স্থলবন্দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গমের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ টাকা করে। ভারত থেকে আমদানি কমায় বাজার চড়া হয়ে উঠেছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও বেড়েছে। তবে গম বিক্রি না করে গুদামে মজুদ রেখে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে দাবি গম ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের।

তথ্য বলছে, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি গম ৩৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে বর্তমানে একই গমের দাম বেড়ে ৪২ টাকায় উন্নীত হয়েছে। হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে গম সরবরাহ করেন রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, নৌপথে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি বন্ধের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ময়দা মিলগুলোয় ভারত থেকে আমদানীকৃত গমের চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। বন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি শুরুর পর থেকেই চাহিদামতো গম কিনে ময়দা মিলগুলোয় সরবরাহ করে আসছিলাম। ভারত গম রফতানি বন্ধ করে দিলে গমের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। পরে আবারো পুরনো এলসির গম রফতানি শুরু করায় বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ে। কমে আসে দাম। কিন্তু আবারো দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে মিলগুলো গম ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরে সিরাজগঞ্জ থেকে গম কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বন্দর দিয়ে যেসব আমদানিকারক গম আমদানি করছেন, তাদের গুদামে পর্যাপ্ত গম আছে। কিন্তু তারা কেউ গম বিক্রি করতে চাইছেন না। কেউ কেউ চাইলেও বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নানা জটিলতার পরেও ভারত পুরনো এলসির গম রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে গম আমদানি অব্যাহত আছে।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন গমের দাম কম থাকলেও হঠাৎ আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বন্ধ থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গম আমদানি অনেকটাই কমেছে। কয়েক দিন আগে বন্দর দিয়ে ২০-২৫ ট্রাক গম আমদানি হলেও বর্তমানে তা কমে ১০-১৫ ট্রাকে নেমেছে। গত মঙ্গলবার বন্দর দিয়ে মাত্র ১২ ট্রাকে ৪৩১ টন গম আমদানি হয়েছে। গত জুলাইয়ে ২০ কর্মদিবসে ৪২৯টি ট্রাকে ১৭ হাজার ১৮২ টন গম আমদানি হয়েছিল।