প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, দেশের কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। হতাশাজনকভাবে বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত শুধু বিশ্বে নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে নিচের দিকে। গত বছরের তুলনায় এ বছরে তা আরো কমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি কাজ না করায় কর-জিডিপি অনুপাত কমছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কর-জিডিপিতে ওপরের দিকে অবস্থান করতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। 

গতকাল রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ২৯তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এনবিআরের নীতি হলো, যারা কর দেন, তাদের ওপর করের চাপ আরো বৃদ্ধি করা। কিন্তু যারা করজালের বাইরে, তারা স্বাধীন। এটা উল্টে দিতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়ানোর এটাই একমাত্র পথ। এনবিআরের নীতি যে কাজে আসেনি, কর-জিডিপির অনুপাত কমে যাওয়া তার লক্ষণ। এ কাজে ডিজিটাইজেশন গতি আনতে পারে। আমি আশা করি এবারের বাজেটে এ বিষয়ে বাস্তব কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমাদের এখানে ট্যাক্স রেট কমিয়ে ট্যাক্স নেট বাড়ানো দরকার। গ্রাম অঞ্চলেও অনেকে ভালোভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। তাদেরও ট্যাক্সের আওতায় আনতে হবে।’ 

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের একক বৃহত্তম উৎস। এ দেশে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রফতানির একক বৃহত্তম গন্তব্য। বাংলাদেশে যত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তার অর্ধেক উৎপাদনের পেছনে মার্কিন বিনিয়োগ আছে। বিদ্যুতের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত টারবাইন দিয়ে উৎপাদিত হয়।’

প্রসঙ্গত, ইউএস ট্রেড শো ১১ মে পর্যন্ত চলবে। মেলায় মেটলাইফ, মাস্টারকার্ড, এক্সনমবিল, শেভরন করপোরেশন ও ফোলিয়া ওয়াটারের মতো প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।