২০২৩ সালে সৌদি আরবের আবাসন খাতে সার্বিক লেনদেন ১৫ শতাংশ কমেছে। পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১০ কোটি ডলারে। তবে একই বছর দেশটির আতিথেয়তা খাতের প্রবৃদ্ধি ও অফিস ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মাল্টিন্যাশনাল প্রফেশনাল সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ‘‌ডেলয়েট’ সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সৌদি আরবে আবাসন খাতের লেনদেনের সার্বিক পরিমাণ কমলেও জেদ্দা ও রাজধানী রিয়াদে সম্পত্তির দাম বেড়েছে। পাশাপাশি অফিস ভাড়াও ঊর্ধ্বমুখী।

সৌদি আবাসন খাতের ২০২৩ সালের বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেলয়েট। প্রতিবেদনে দেশটির সম্পত্তি বাজার বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডেলয়েটের প্রতিবেদনে সৌদি আরবের আবাসন খাতের ইতিবাচক অবস্থার চিত্রই উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সৌদির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রিয়ালে। ২০৩০ সাল নাগাদ এটি বেড়ে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও বিশ্লেষণ সংস্থা অক্সফোর্ড ইকোনমিকস থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, এ প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ১ দশমিক ৬ শতাংশের অনুমিত বার্ষিক বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে।

ডিলয়েট মিডল ইস্টের আবাসন বিভাগের প্রধান স্টেফান বার্চ বলেন, ‘‌২০২৩ সালে বড় করপোরেট ও এসএমই উভয়ের জন্য বাণিজ্যিক অফিস স্পেসের ভালো চাহিদা ছিল। এটি দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করেছে।’ 

সরকারি তথ্যমতে, সৌদি আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ কমলেও ভিলা ও অ্যাপার্টমেন্টের বিক্রয়মূল্য আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ২০২৩ সালে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে যৌথভাবে ৬৭ হাজার ২৩৩টি আবাসন লেনদেনের রেকর্ড হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ ৭ হাজার ৯০০ রিয়াল। ২০২২ সালের তুলনায় এটি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিফলন। এছাড়া রিয়াদ ও জেদ্দায় ভাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। দুই শহরে যথাক্রমে ভাড়া বেড়েছে ৫ ও ৮ শতাংশ।

রাজধানী রিয়াদে গত ১২ মাসে লেনদেন করা অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের দাম ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ রিয়াল, যা সাধারণত দেশটির স্বল্প ও মধ্য আয়ের জনগণের চাহিদাকে নির্দেশ করে।