চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে গম রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। শস্য বাজার বিশ্লেষণকারী ফ্রান্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি গ্রেইনসের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া
হয়েছে। ইইউ চলতি মৌসুমে খাদ্যপণ্যটির সমাপনী মজুদ লক্ষ্য কমিয়েছে, যা রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়া নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর গমের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়েছে। এর বিপরীতে অভ্যন্তরীণ খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় কয়েকটি শীর্ষ রফতানিকরাক দেশ পণ্যটির রফতানি স্থগিত করে দিয়েছে। এতে প্রতিযোগিতা কমে পণ্যটির রফতানি বাণিজ্যে একচেটিয়া সুবিধা পেতে পারে ইইউ। খবর রয়টার্স ও ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
ইইউতে প্রতি বছরের জুলাইয়ে গমের নতুন মৌসুম শুরু
হয়। চলে পরের বছরের জুন পর্যন্ত। স্ট্র্যাটেজি গ্রেইনসের মে মাসের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া
হয়েছে, ২০১৯-২০ মৌসুমে ইইউ থেকে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন গম আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হতে পারে। এপ্রিলে অঞ্চলটির গম রফতানির পূর্বভাস ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ইইউ থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি পূর্বাভাস ১৯ লাখ টন বাড়িয়েছে প্রাতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকরাক দেশ রাশিয়াসহ কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো মহামারীর
মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও খাদ্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে গম রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বা সীমিত করে এনেছে। এর বাইরে অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইউক্রেন পণ্যটির রফতানিতে নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে দিয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে পণ্যটির রফতানি বাণিজ্যে ইইউর প্রতিযোগিতা অনেকটা কমে এসেছে। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ কৃষিপণ্যটির কৌশলগত ক্রয় বাড়িয়েছে। পাশাপাশি মরোক্কো পণ্যটির ক্রয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ইইউ থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।
এদিকে রফতানি বৃদ্ধি চলতি মৌসুমে ইইউতে গমের সামপনী মজুদ কমিয়ে আনতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে। স্ট্র্যাটেজি গ্রেইনসের দেয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুম শেষে ইইউতে পণ্যটির মজদু কমে ১ কোটি ২৬ লাখ টনে নামতে পারে। আগের মাসের প্রতিবেদনে এ পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩৭ লাখ টন। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটি ইইউতে গমের সমাপনী মজুদ পূর্বাভাস ১১ লাখ টন কমিয়ে এনেছে।










