ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ কফি উৎপাদক। চলতি বছর ভয়াবহ খরা ও তুষারপাতের কারণে পানীয় পণ্যটি উৎপাদনে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে লাতিন আমেরিকার এ দেশ। এ কারণে বছরের বেশির ভাগ সময়ই অস্থিতিশীল ছিল কফির আন্তর্জাতিক বাজার। এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইনে সংকট বাজারকে আরো উত্তপ্ত করে তুলতে সহায়তা করে। আগামী বছর বাজার পরিস্থিতি নিয়েও দেখা দিয়েছে অনেক বেশি অনিশ্চয়তা। বর্ষা মৌসুমে ব্রাজিলে কেমন বৃষ্টিপাত হবে, তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারের উত্থান-পতন। আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএনজি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর পরিমাণ কফি সরবরাহ করে ব্রাজিল। তবে এ বছরের চিত্র ভিন্ন। বৈরী আবহাওয়া ভুট্টা ও চিনিসহ দেশটির বেশির ভাগ ফসল উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে অ্যারাবিকা কফি উৎপাদনে। এ কারণে পানীয় পণ্যটির দাম বেড়ে এক দশকের সর্বোচ্চে উঠেছে।
তুষারপাত ও খরায় ব্রাজিলের বড় একটি এলাকাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কফি গাছ। এটি আগামী বছরের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে খরার কারণে আগামী বছরের আবাদ নিয়েও উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ব্রাজিলের কৃষি সংস্থা কোনাবের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুম শেষে ব্রাজিলে সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি উৎপাদন হতে পারে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমবে। এ সময় কফি আবাদও ছিল সর্বনিম্নে।
যদিও ২০২২-২৩ মৌসুমে পানীয় পণ্যটির আবাদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু খরা ও তুষারপাতের কারণে উৎপাদন নিয়ে অনেক বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বলছে, আগামী মৌসুমে কফি উৎপাদন ১ কোটি ২০ লাখ টন কমতে পারে।
এদিকে অন্যান্য পণ্যের মতো সরবরাহ চেইন সংকটের প্রভাব পড়েছে কফি বাজারেও। কভিড-১৯ জনিত নানা প্রতিবন্ধকতা সরবরাহ ধারাকে সংকুচিত করে তুলেছে। কনটেইনারের তীব্র সংকটের কারণে বর্তমানে জাহাজীকরণ ব্যয় আকাশচুম্বী। আন্তর্জাতিক কফি অর্গানাইজেশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, গত মৌসুমে বিশ্ববাজারে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যাগ কফি উদ্বৃত্ত ছিল। তবে চলতি মৌসুমে চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।










