ধর্মঘট, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আবহাওয়াজনিত কারণে বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাজ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে খুবই ধীর। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি বেড়েছে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। সংখ্যাটা কভিড-১৯ মহামারীর আগে দেখা মাত্রার তুলনায়ও বেশ কম। এমনকি বড় অর্থনীতির অন্যান্য দেশে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তার থেকেও বেশ পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য। তার পরও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, তারা সম্ভাবনার বিষয়ে অনেক বেশি আশাবাদী ও যুক্তরাজ্য মন্দা এড়াতে সক্ষম হবে। খবর বিবিসি।
আগে দেশটি ব্যাংকের সুদহার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ করে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়। যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের (ওএনএস) তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে দেশের অর্থনীতি খুব কম হারে বেড়েছে। গত মার্চে তা সংকুচিত হয়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময় গাড়ি বিক্রি ও খুচরা খাতের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। এখনো দেশটির অর্থনীতি মহামারীর আগের অবস্থার তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ কম বলে জানিয়েছে ওএনএস। যদিও বছরের প্রথম তিন মাসে জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। এ সময় অন্যান্য বড় অর্থনীতি বেড়েছে খুব দ্রুততার সঙ্গে।
ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ভিক্টোরিয়া স্কলার বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির নেতিবাচক ধারা ও জীবনযাত্রার খরচের বাড়তি চাপ ভোক্তাদের ঝামেলায় ফেলছে। বিপরীতে চাপ পড়ছে বিভিন্ন পরিষেবা খাতে। যেগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সচল রাখার মূল ভিত্তি।’
ওএনএসের ইকোনমিক স্ট্যাটিসটিকসের পরিচালক ডারেন মরগ্যান জানান, বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ প্রবৃদ্ধিতে মূলত প্রযুক্তি ও নির্মাণকাজ বেশি সহায়তা করেছে।
বিবিসি টুডের আয়োজনে তিনি জানান, মার্চে গাড়ি বিক্রির হারও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়ে গেছে। আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে খুচরা বিক্রিও কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে, ফলে হাই স্ট্রিট ভ্রমণ কিছুটা স্থগিত করে অনেক মানুষ।
তিনি বলেন, ‘আমরা খাবারের দোকানের বিক্রিও কমে যেতে দেখেছি। খুচরা বিক্রেতারা আমাদের জানিয়েছে, জীবনযাত্রার খরচ ও খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে।’
সাম্প্রতিক এ প্রবৃদ্ধির বিষয়ে চ্যান্সেলর জেরেমি হান্ট বলেন, ‘অর্থনীতি যে বাড়ছে তা ভালো খবর। কিন্তু সরকারের প্রবৃদ্ধি অগ্রাধিকার অর্জন করতে হলে আমাদের প্রতিযোগিতামূলক কর, শ্রমিক সরবরাহ ও উৎপাদনশীলতার বিষয়ে মনোযোগ স্থির রাখতে হবে।’










