পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২ হিসাব বছরে কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ২০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গত এক হিসাব বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভা থেকে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে কোম্পানিটি।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ১১ টাকা ৯৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৩ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট দায় (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮৬ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯১ পয়সা।

চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কর-পরবর্তী সমন্বিত লোকসান হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮০ কোটি ৬ লাখ টাকা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৬৪ পয়সা।

‌লোকসান বাড়ার কারণ হি‌সে‌বে ইউনিয়ন ক্যা‌পিটাল জা‌নি‌য়ে‌ছে, ২০২২ হিসাব বছ‌রে আগের হিসাব বছ‌রের তুলনায় কোম্পা‌নি‌টির খেলাপি ঋণের প‌রিমাণ বে‌ড়ে‌ছে এবং এতে বাড়‌তি স‌ঞ্চি‌তি সংরক্ষণ কর‌তে হ‌য়ে‌ছে। যার প্রভা‌বে লোকসান বে‌ড়েছে। এছাড়া আলোচ্য হিসাব বছ‌রে কোম্পা‌নি‌টি নতুন ক‌রে কো‌নো ঋণ বিতরণ ক‌রেনি। ফ‌লে এ সম‌য়ে কোম্পা‌নি‌টির সুদ আয়ও ক‌মে‌ছে, যা লোকসান বাড়ার ক্ষে‌ত্রে ভূ‌মিকা রে‌খে‌ছে। এসব কার‌ণের পাশাপা‌শি পুঁজিবাজা‌রে মন্দার কার‌ণে ব্রোকা‌রেজ ক‌মিশন বাবদ কোম্পা‌নি‌টির আয় ক‌মে যাওয়ার কার‌ণে চল‌তি ২০২৩ হিসাব বছ‌রের প্রথমা‌র্ধে কোম্পা‌নি‌টি‌কে লোকসান গুনতে হ‌য়ে‌ছে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত নেয়নি ইউনিয়ন ক্যাপিটাল। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ ও ভেন্যু পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর আগের হিসাব বছরের জন্য একই হারে স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারাহোল্ডাররা।

২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৭২ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ২৩৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৭ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৪৩। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৩ শতাংশ। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।