মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ১১ টাকা। মূলত ভারতের বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩৫ টাকা কেজি দরে। রোববার বন্দরে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৫ টাকা কেজি দরে। গতকাল দাম আরো ১ টাকা বেড়ে যায়।
পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার রফিকুল ইসলাম ও আইয়ুব হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে নিয়ে গেলাম ৩৫ টাকা কেজি দরে। বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে এসে দাম শুনে হতবাক হয়ে গেছি। ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। বন্দরে যে দাম চাচ্ছে, মোকামে সে দামে তো বিক্রি করতে পারব না। পেঁয়াজ ক্রয় করে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন ও রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এছাড়া পূজার কারণে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকরা ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ ওঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। মোকামগুলোতে লোডিং কমে গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে মোকামগুলোতে পেঁয়াজের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। যেখানে প্রতিদিন হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের প্রয়োজন ৫০ ট্রাক, সেখানে বন্দর দিয়ে আসছে মাত্র ২০-২৫ ট্রাক করে। এদিকে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধির কারণে প্রভাব পড়েছে আমদানীকৃত পেঁয়াজে। বেড়েছে দাম। এছাড়া এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী চাচ্ছেন পেঁয়াজ মজুদ রেখে বিক্রি করতে। এটিও দামেরও ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তবে পূজার পর এমন দাম থাকবে না। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন জাতের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। সেগুলো আসতে শুরু করবে। ফলে দাম কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজের আমদানি অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি। রোববার বন্দর দিয়ে ২৫টি ট্রাকে ৭১১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গতকালও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল।










