২০২০-২১ অর্থবছরে স্বল্প পরিমাণে বেড়েছে ভারতের প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন।
করোনা মহামারীতে সৃষ্ট সংকট সত্ত্বেও অনুকূল পরিস্থিতির কারণে উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে জানান দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা।
তবে উৎপাদন বাড়লেও কমেছে অর্থকরী পণ্যটির ব্যবহার।
ফলে প্রাকৃতিক রাবার আমদানির পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছে দেশটি।
খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত ৭ লাখ ১৫ হাজার টন প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন করেছে।
আগের অর্থবছরে পণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ১২ হাজার টন।
যদিও অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন কমে গিয়েছিল।
তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ায় পরবর্তী মাসগুলোয় রাবার উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।
এদিকে করোনার প্রভাবে দেশটিতে প্রাকৃতিক রাবার ব্যবহার কমেছে।
২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থকরী পণ্যটি ব্যবহারের পরিমাণ কমে ১০ লাখ ৯৬ হাজার টনে নেমে গেছে।
আগের অর্থবছরে প্রাকৃতিক রাবার ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার টন।
ভারতের রাবার বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কেএন রাঘবন বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাবার উৎপাদনে ব্যাপক ধস নামে।
কিন্তু পরবর্তী মাসগুলোয় খাতটি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসে।
উৎপাদন বাড়লেও দেশের বাজারে পণ্যটির দাম এখনো চড়া।
ব্যবহারও আশানুরূপ হারে বাড়েনি।
২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতে টায়ার খাতে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি এসেছে।
এ সময় প্রাকৃতিক রাবার থেকে টায়ার তৈরি বাড়ায় দেশটি।
কেএন রাঘবন বলেন, টায়ার তৈরিতে প্রবৃদ্ধি আসায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে রাবার খাত।
করোনাকালে ভারত সরকার কর্তৃক আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে টায়ার আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।
এ কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত রাবার থেকে টায়ার তৈরির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় ভারত।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, সর্বোপরি রাবারের ব্যবহার কমলেও টায়ার উৎপাদন খাতে পণ্যটির ব্যবহার বেড়েছে।
তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে টায়ার ব্যতীত অন্য খাতে প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার কমে ৩ লাখ ১৫ হাজার টনে নেমে আসে।
আগের অর্থবছরে ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার টন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন বাড়লেও ব্যবহার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো আমদানি হ্রাস।
২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারত ৪ লাখ ৫৭ হাজার টন প্রাকৃতিক রাবার আমদানি করলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কমে ৪ লাখ ১০ হাজার টনে নেমে যায়।
এদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন বড় পরিসরে বাড়ানোর কথা ভাবছে ভারত।
এ লক্ষ্যে উৎপাদনকারীদের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান দেশটির রাবার বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কেএন রাঘবন।










