অভ্যন্তরীণ চাহিদা মোকাবেলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ক্রমেই কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। এ অবস্থায় এ অঞ্চলের দেশ ভিয়েতনাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করছে। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি পাওয়া বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবেলায় কয়লা আমদানির এ পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খবর রয়টার্স।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্কারোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে কমিয়ে আনতে দেশটি থেকে পণ্য আমদানি বাড়াতে চায়ছে ভিয়েতনাম। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি থেকে কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দেশটি।
দেশটির গণমধ্যমে বলা হয়েছে, সম্প্রতি রাজধানী হ্যানয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত কয়লা উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ভিনাকমিন ও যুক্তরাষ্ট্রের পেনিসিলভানিয়াভিত্তিক এক্সকোল এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়লা আমদানির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি নিট কয়লা আমদানিকারক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ভিয়েতনাম। দেশটিতে কয়লার অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ এতদিন ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হতো। অন্যদিকে দেশটির বৃহৎ কয়লা উত্তোলনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভিনাকমিন অভ্যন্তরীণ খনি থেকে প্রতি বছর চার কোটি টন কয়লা উত্তোলন করে।
দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসবে, যা বর্তমানের চেয়ে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ক্রমবর্ধমান চাহিদা বাড়ায় ২০২১ সাল থেকে দেশটিতে বিদ্যুতের বড় সংকট তৈরি হবে। ফলে নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যেতে হচ্ছে তাদের। যার মধ্যে বেশির ভাগ কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ অবস্থায় ২০১৬-৩০ সালের বিদ্যুৎ প্রকল্প খাতে দেশটিতে ৬৮ কোটি টন কয়লা আমদানির প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমিয়ে আনতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করতে চায় ভিয়েতনাম। দেশটির বিনহ সন রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে সম্প্রতি এক বৈঠক করেছে। তারা বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) থেকে ২০-৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে ভিয়েতনাম। দেশটির ডাং কোয়াত পরিশোধন কেন্দ্রের জন্য এ জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভিয়েতনামের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দেশটির কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৯ কোটি ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
এছাড়া গত জুনে দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করার ঘোষণা দিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, দেশটির শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের মধ্যে শিগগিরই এলএনজি আমদানির বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।
যদিও দেশটির কোনো এলএনজি আমদানি টার্মিনাল নেই। কিন্তু দেশটি এখন এলএনজি আমদানি ও ব্যবসাকে উন্নিত করতে নতুন অংশীদারের খোঁজ করছে। এমনকি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নেও নতুন অংশীদারের খোঁজে রয়েছে ভিয়েতনাম।










