কিন্তু গত এক মাস সেখানে এক অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট ভারতের এ সিরামিক হাবকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
ভারতের মোট সিরামিক পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি হয় মোরবিতে। টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারের জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ হাজার কোটি রুপি। এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয় প্রচুর পণ্য রফতানি হয়।
স্থানীয় সিরামিক পণ্য উৎপাদনকারীদের সমিতি মোরবি সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটে এ অঞ্চলের প্রায় ৫৫০টি কারখানা উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে বড় কারখানাগুলোর ৮০ শতাংশই এখন তালাবদ্ধ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সৃষ্ট যুদ্ধে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। ভারতের গ্যাস আমদানির প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও প্রোপেনের সরবরাহ কমে যায়। বর্তমানে ভারতের ২১টি জাহাজ এ সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে আছে। এমন অবস্থায় ভারত সরকার গৃহস্থালি, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতকে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দেয়ায় সিরামিক শিল্পের মতো জ্বালানিনির্ভর খাতগুলো বড় সংকটে পড়েছে।
মোরবির এ অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় শিকার হয়েছেন সেখানে কাজ করা প্রায় চার লাখ শ্রমিক। তাদের বড় অংশই উত্তর ও পূর্ব ভারত থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিক। তারা শুধু কারখানা নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত পরিবহন, প্যাকেজিং ও রফতানি খাতেও কাজ করেন। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বিশালসংখ্যক মানুষের রুটি-রুজি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। শচীন পরাশর নামের এক পরিযায়ী শ্রমিক একটি আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কাজ ছাড়া এখানে বসে থাকলে আমাকে না খেয়ে মরতে হবে।’
অনিশ্চয়তা সইতে না পেরে অনেক শ্রমিকই এখন বাড়ির পথ ধরেছেন। আবার যারা এখনো যাননি, তাদের সময় কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়। ভূমি কুমার নামে টাইলস কারখানার এক শ্রমিক জানান, তার মালিক এখন পর্যন্ত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করলেও পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকাল চললে কী হবে, তা তিনি জানেন না।
কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, প্রোপেনের জোগান এখন প্রায় শূন্য। পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গেলেও এর দাম অনেক ওঠানামা করছে। এ কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ আর বিক্রয়মূল্য ঠিক করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। আপাতত ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ শাটডাউন চলার কথা রয়েছে। তবে এর চেয়ে বেশি সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের বাজারে টাইলসের দাম বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি আদেশ হারানোর বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। কারণ মজুদ থাকা পণ্য দিয়ে বড়জোর এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব। মোরবির কারখানার এ অচলাবস্থা কাটবে কিনা, তা এখন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং সরকারি কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।










