চলতি মৌসুমে চীনে সয়াবিনের চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে। কিন্তু এ সময় কৃষিপণ্যটির উৎপাদন থাকবে নিম্নমুখী। ফলে এ মৌসুমে রেকর্ড সয়াবিন আমদানি করবে দেশটি। এগ্রিকালচার সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস।
চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন আমদানিকারক। পশুখাদ্য হিসেবে দেশটিতে সয়াবিনের ব্যাপক চাহিদা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটি সব মিলিয়ে ১০ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করতে পারে। গত বিপণন মৌসুমের তুলনায় আমদানি বাড়বে ২ দশমিক ২ শতাংশ।
নভেম্বরে সয়াবিন উৎপাদন পূর্বাভাস ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫০ হাজার টন থেকে কমিয়ে ১ কোটি ৬৪ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। প্রতিবেদন বলছে, এ বছর চীনে সয়াবিন আবাদের পরিমাণ কমেছে, যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে উৎপাদনে। গত বছরের তুলনায় আবাদ কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত চীন ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
মূলত শূকরের মাংসের দাম কমে যাওয়ায় পশুপালন খাতে সয়াবিনের চাহিদায় ধস নামে। এ কারণেই আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া বিপণন মৌসুমে আমদানি আবারো ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে। এর মধ্যে নভেম্বরেই সয়াবিন আমদানি ব্যাপক হারে বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, নভেম্বরে চীন ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫১ লাখ ১০ হাজার টন। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে ৬৮ শতাংশ।
চীনের সয়াবিন আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এ বছরের আগস্টে দেশটিতে ঘূর্ণিঝড় আইডা আঘাত হানলে সয়াবিনসহ খাদ্যশস্য রফতানি সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে চীন ব্রাজিল থেকে সয়াবিন ক্রয় বাড়িয়ে দেয়। যদিও চাহিদা কম থাকায় ক্রয়ের পরিমাণ ছিল স্বল্প। তবে বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় আইডার ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শুরু হয়েছে রফতানির সবচেয়ে ভালো সময়। এ কারণে দেশটি চীনে সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে সয়াবিনের পাশাপাশি ভোজ্যতেল আমদানিও বাড়িয়েছে চীন। নভেম্বরে দেশটি ৬ লাখ ৭৩ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করে। বছরের ১১ মাসে আমদানি করা হয়েছে ৯৫ লাখ ৭৩ হাজার টন, যা গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।










