সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু চরম আবহাওয়ার কারণে খাদ্যের উচ্চমূল্য গৃহস্থালির বাজেটকে প্রভাবিত করেছে এবং মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারাকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে আরবিআই পুনক্রয় হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছিল, এখনো তা অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, ‘জুলাই ও আগস্টে সবজির দাম বাড়ার পূর্বাভাস ছিল। তবে সবজির দামের ধাক্কা দ্রুতই ঠিক হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিপরীতে আবহাওয়ায় সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবের সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্যের দামের পটভূমি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।’
ভারতে ২০২২ সালের এপ্রিলের মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল। মে মাসে ৪ দশমিক ৩১ শতাংশে নেমে এলেও জুনে মূল্যস্ফীতি আবারো বেড়ে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার সঙ্গে ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে সংগতিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, টমেটোসহ অপরিশোধিত তেল ও খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে স্বল্পমেয়াদে মূল্যস্ফীতি আবারো আরবিআইয়ের সর্বোচ্চ সহনশীলতার মাত্রা ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আরবিআই তার জুলাই বুলেটিনে উল্লেখ করেছে, প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কীটপতঙ্গের আক্রমণের ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় টমেটোর দাম বেড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে থাকে। এমন অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে তেলের আকাশছোঁয়া দামের কারণে সংকটপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশটি।
আরবিআই ২০২২ সালের মে মাসে যখন আর্থিক কঠোরকরণ চক্র শিথিল করেছিল, তখন হার ৪ শতাংশে ঠেকেছিল। দাস বলেন, ‘মনিটারি কমিটি আবাসন প্রত্যাহারের দিকে জোর দিয়েছে। হেডলাইন মূল্যস্ফীতি শুধু সহনশীল মাত্রায় আনলেই চলবে না। এটাকে ৪ শতাংশের মধ্যে আটকে রাখতে হবে।’
২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে হেডলাইন মূল্যস্ফীতির পূর্ববর্তী পূর্বাভাস ৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে পরিবর্তন করে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে। অফিশিয়াল তথ্যানুসারে, বিশ্বের পঞ্চম-বৃহৎ অর্থনীতি মার্চ প্রান্তিকে ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে এবং বার্ষিক সম্প্রসারণ ৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। গভর্নর বলেছে, ২০২৩-২০২৪ সালের জন্য প্রকৃত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৫ শতাংশ রয়ে গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত প্রধান অর্থনীতির দেশ ভারত। খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ভারত সরকার এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। গত মাসে চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটি বলেছিল, অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর চুক্তি নবায়ন না করায় গমের বাজার উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় চাল রফতানিকারক দেশও চালের বৈদেশিক চালান বন্ধ করে দেয়ায় খাদ্যের বৈশ্বিক বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।










