ইন্দো-প্যাসিফিক ব্লকে যোগদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। চুক্তিটি ইউরোপের বাইরে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্যের সুযোগ উন্মোচনে সহায়তা করবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে। 

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউকের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব কেমি ব্যাডেনোচ কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ এগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সিপিটিপিপিতে জি৭ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কানাডা, জাপান ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের মিত্র অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। পাশাপাশি অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। 

বছর তিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ৫০ বছরের সম্পর্ক ছিন্নের পর থেকে লন্ডন ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় দুই বছর আলোচনার পর সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সিপিটিপিপি যুক্তরাজ্যের জন্য ব্রেক্সিটের পর সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি। 

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি সম্পাদনের ফলে সিপিটিপিপি সদস্যদেশগুলোয় যুক্তরাজ্যের পণ্য রফতানি শুল্ক অনেক কমে যাবে। সিপিটিপিপি সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি ১২ ট্রিলিয়ন পাউন্ড বা ১৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির ১৫ শতাংশ । 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংসদীয় যাচাই-বাছাই এবং আইন প্রণয়নের পর চুক্তিটি আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেমি ব্যাডেনোচ চুক্তিটিকে ‘ব্রিটিশ বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের উৎসাহজনক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি বিস্তৃত অঞ্চলে প্রবেশাধিকার এবং ৫০ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার বাজারে প্রবেশের বাণিজ্যিক সুযোগ উন্মুক্ত করেছে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‌স্বাধীনচেতা জাতি হিসেবে একটি সক্রিয়, ক্রমবর্ধমান ও দূরদর্শী বাণিজ্য ব্লকে যোগদানের জন্য আমরা আমাদের অবস্থান ব্যবহার করছি। চুক্তিটি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে সম্প্রসারণ এবং কয়েক হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে সাহায্য করবে।’

ব্রেক্সিট সমর্থকরা চুক্তিটিকে ইউকের জন্য বড় সুযোগ হিসাবে দেখছেন, যা সদস্য হিসেবে দেশটির আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে বাড়িয়ে তোলে। বিপরীতে সমালোচকরা বলছেন, ২৭ সদস্যের বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্লক ইইউ ত্যাগের ফলে যুক্তরাজ্যকে স্থায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের জন্য লড়াই করতে হবে। যদিও বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধি দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ হারে ১৮০ কোটি পাউন্ড বা ২২০ কোটি ডলারে পৌঁছবে।

এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য রক্ষার উপায় হিসেবে দেখা হয় সিপিটিপিপিকে। তবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের কয়েক মাস পর এ ব্লকে যোগদানের আবেদন করে চীন। তাদের ধারাবাহিকতায় তাইওয়ান, একুয়েডর, কোস্টারিকা, উরুগুয়ে ও ইউক্রেন সিপিটিপিপি দলে যোগদানের জন্য আবেদন করেছে। যদিও আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৭ সালে এ চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার করে নেন।