চীনের উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হয়েছে। অক্টোবরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো দেশটির ফ্যাক্টরি গেট পর্যায়ে পণ্যের দাম সংকুচিত হয়েছে। এ সময়ে ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যের দাম বৃদ্ধিও ধীর হয়েছে। কঠোর কভিডজনিত বিধিনিষেধ, রিয়েল এস্টেট খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চিত পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশ ও দেশের বাইরে চীনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তারা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী মাসগুলোয় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ওপর মূল্য সংকোচনের চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সুদের হার এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বেইজিংয়ের চ্যালেঞ্জ আরো বাড়িয়ে তুলবে।
চীনের পরিসংখ্যান সংস্থা ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এনবিএস) তথ্য অনুসারে, গত মাসে উৎপাদন মূল্য সূচক (পিপিআই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। যেখানে সেপ্টেম্বরে এ সূচক দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ১ দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
গত মাসে দেশটিতে ভোক্তা মূল্য সূচকও (সিপিআই) ধীরগতিতে বেড়েছে। সিপিআই সেপ্টেম্বরে ২৯ মাসের সর্বোচ্চ থেকে কমে এসেছে। অক্টোবরে সিপিআই এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাজারে অস্থিরতার মধ্যে থাকা খাবার ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি গত মাসে দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ হার সেপ্টেম্বরেও একই ছিল। এ সময়ে খাদ্যের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। এ হার সেপ্টেম্বরের ৮ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়ে ধীর। তাজা সবজির দাম সেপ্টেম্বরে ১২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়লেও অক্টোবরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
রিয়েল এস্টেট কোম্পানি জোনস ল্যাং ল্যাসালের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা বিভাগের প্রধান ব্রুস প্যাং বলেন, দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং রফতানি হ্রাসের মতো কারণগুলো চীনকে মূল্য সংকোচনের চ্যালেঞ্জের দিকে নিয়ে যাবে। দেশটির কোর মূল্যস্ফীতি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে দেড় শতাংশের নিচে রয়েছে।
এনবিএসের বিবৃতি অনুসারে, পিপিআইয়ে মূল্য সংকোচনের প্রবণতা গত বছর রেকর্ড পর্যায়ের দাম এবং পণ্যের মূল্য হ্রাসকে প্রতিফলিত করছে। কয়লা খনন ও ওয়াশিং শিল্পের মূল্যস্ফীতি ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এ হার সেপ্টেম্বরের ২ দশমিক ৭ শতাংশ সংকোচন থেকে আরো গভীর হয়েছে। এছাড়া ধাতু বিগলন খাতের মূল্যস্ফীতি ২১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। যেখানে সেপ্টেম্বরে হ্রাসের হার ছিল ১৮ শতাংশ।
কভিড প্রাদুর্ভাবের পুনরাবৃত্তির কারণে চলতি বছর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কভিডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে কারখানা ও ভোক্তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মাসে রফতানি ও আমদানি সংকুচিত হওয়ার কারণে বাণিজ্য ইঞ্জিনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকির কারণে আগামী মাসগুলোয় চীনের বাণিজ্য আরো দুর্বল হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান নোমুরার বিশ্লেষকরা একটি নোটে বলেছেন, চীনের সঙ্গে অন্য শিল্পপ্রধান দেশগুলোর পিপিআইয়ে পার্থক্যের অর্থ হলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির উৎপাদন কিছু প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে। এটি চীনের রফতানিকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি চীনা পণ্যের চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে।










