চলতি বছর মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ক্যান্সারের মূল ওষুধের শক্তিশালী বিক্রি ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাটির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। সর্বশেষ প্রান্তিকেও অ্যাংলো-সুইডিশ প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফা পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গিয়েছে। খবর রয়টার্স।

দীর্ঘ কভিডজনিত লকডাউন সত্ত্বেও চীনে ব্যবসা বাড়াতে পেরেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। চীন সংস্থাটির ব্যবসায়িক পরিস্থিতির জন্য একটি সূচক হিসেবে কাজ করে। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের ১৬ শতাংশ এসেছে দেশটি থেকে। ওষুধের কম দামের কারণে চীনে বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার কভিডজনিত লকডাউন কিছু রোগীর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল। এ ধরনের সমস্যা সত্ত্বেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে বিক্রি ৮ শতাংশ বেড়েছে। যদিও বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল।

তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে এ অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। যদিও এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী প্যাসকেল সোরিওট। তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের অসুবিধাগুলোর কোনোটিই এখনো অনুভব করিনি। তবে আগামীতে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।

ট্যাগরিসো, ইমফিনজি ও এনহার্টুসহ অ্যাস্ট্রাজেনেকার ক্যান্সারের ওষুধের বিক্রি প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানের আয় বেড়ে গিয়েছে। সংস্থাটির ক্যান্সারের ওষুধগুলোর বিক্রি ২৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর শেয়ারপ্রতি মুনাফা ২০-৩০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। যেখানে এর আগে শেয়ারপ্রতি ২০ শতাংশ মুনাফা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তৃতীয় প্রান্তিকে আয় ও মুনাফা বেড়ে যাওয়ায় পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বছরে শক্তিশালী মুনাফার আশা করছে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এখনো কভিড প্রতিরোধী টিকার অনুমোদন পায়নি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। বিষয়টি নিয়ে প্যাসকেল সোরিওট বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রে কভিড টিকার অনুমোদন নিয়ে অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ এমনিতেই কভিড টিকার চাহিদা কমে গিয়েছে। এজন্য এ অনুমোদন পাওয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য কোনো অর্থবহ ছিল না।

করোনার টিকা নিয়ে আসা প্রথম প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। কিন্তু সংস্থাটি ফাইজার ও মডার্নার তৈরি এমআরএনএ টিকার কাছে হেরে গিয়েছিল। তার পরও প্রতিষ্ঠানটির কভিডের চিকিৎসা ব্যবহূত অ্যান্টিবডির বিক্রি ক্রমবর্ধমান রয়েছে। এটি সংস্থাটির কভিড টিকার বিক্রি পতনে সৃষ্ট ক্ষতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

ফার্মা খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাইটলাইনের বিশ্লেষক ঝিয়ার সাইদ বলেন, কভিড টিকার চাহিদা নিম্নমুখী রয়েছে। এজন্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল টিকা নিয়ে খুব বেশি অগ্রসর হচ্ছে না। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিওর কারণে সংস্থাটিতে টিকার চাহিদা কমার খুব বেশি প্রভাব পড়েনি।