পাট ও চামড়াজাত পণ্যসহ দেশের রফতানিযোগ্য পণ্যের নতুন বাজার খুঁজতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ইকোনমিক মিনিস্টার ও কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
আগামী বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় যে ২৩টি দেশে কমার্শিয়াল কাউন্সেলরদের দপ্তর রয়েছে, সেসব দেশের অন্তত একটি করে স্টল মেলায় নিশ্চিত করতে এখন থেকে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশ্বের ২৩ দেশে কর্মরত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
শুধু রফতানি নয়, বাংলাদেশ যেসব পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তার উৎপাদন ও মূল্য মনিটরিং এবং মন্ত্রণালয়ে পাঠানোরও নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব দেশে রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়, সেসব দেশে বিকল্প কোনো পণ্য রফতানি করে আমদানি-রফতানিতে ভারসাম্য আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। যদি কোনো বাণিজ্য বাধা (ট্যারিফ-নন ট্যারিফ) থাকে, তাও দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সব কমার্শিয়াল কাউন্সিলকে কর্মরত দেশের প্রথম ১০টি আমদানি ও রফতানি পণ্যের দামসহ মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাতে হবে। কোন দেশে কী পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা খুঁজে বের করে রফতানির ব্যবস্থা নিতে হবে।’
প্রতিটি দেশের আমদানি-রফতানিকারক, ব্যবসায়িক অ্যাসোসিয়েশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে আহসানুল ইসলাম টিটু তাদের সঙ্গে নিয়মিত সভা-সেমিনার করে বাংলাদেশী পণ্যের ব্র্যান্ডিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিতে হবে। আমাদের দেশে এগ্রো ফুড, সি ফুড, প্লাস্টিক, সিরামিক, বাইসাইকেল, ফার্নিচার এবং চাসহ অনেক রফতানিযোগ্য পণ্য রয়েছে। এগুলো রফতানির নতুন বাজার ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আমদানির জন্য বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। এককভাবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনলাইন সভায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান এএইচএম আহসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।










