সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ১৩তম বর্ষপূর্তি উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ফজলুতুন নেছা, মোস্তফা কামরুস সোবহান, ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, শেখ মোহাম্মদ ড্যানিয়েল, ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শাখা ব্যবস্থাপকরা।

অনুষ্ঠানে কেক কাটা, কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি এবং সব বীমাকারীর কল্যাণ কামনা করা হয়।

কোম্পানির চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম বলেন, ১৩ বছরের পথচলায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. গ্রাহকের আস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে দেশের জীবন বিমা খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, দ্রুত দাবি পরিশোধ, ঝুকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের মানুষের আস্থা অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, জীবন বিমার প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিফলিত হয়, যখন একজন গ্রাহক বা তার পরিবার প্রয়োজনের মুহূর্তে সময়মতো প্রাপ্য দাবি হাতে পান। তাই দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য দাবি পরিশোধ নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সোনালী লাইফ ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সক্ষমতা, সুশাসন, গ্রাহকসেবা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের জীবন বিমা খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে সোনালী লাইফ মোট ৪০৫ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধ করে, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, দায়বদ্ধতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

২০২৬ সালেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সোনালী লাইফ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে। একই সঙ্গে যোগ্য দাবিসমূহ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর ফলে দাবি নিষ্পত্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে এবং গ্রাহকসেবার মান আরো উন্নত হচ্ছে।

২০২৫ সালের আর্থিক ফলাফল সোনালী লাইফের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক ভিত্তির শক্তিমত্তার স্পষ্ট প্রতিফলন বহন করে। এ সময়ে কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা গ্রাহকের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।

২০২৫ সালের আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে দেশের ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে সোনালী লাইফ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। একই সময়ে লাইফ ফান্ডের দিক থেকে সপ্তম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে দশম অবস্থান অর্জনের মাধ্যমে সোনালী লাইফ দেশের জীবন বিমা খাতে একটি সুদৃঢ় ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী দেশের চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোনালী লাইফ মোট প্রিমিয়াম আয়, নবায়ন প্রিমিয়াম, লাইফ ফান্ড এবং বিনিয়োগ— চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এ সাফল্য কোম্পানির বিচক্ষণ নেতৃত্ব, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালনা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক ব্যবসায়িক দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন।

১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং উৎকৃষ্ট গ্রাহকসেবার মাধ্যমে প্রতিটি বীমাকারীর আস্থা আরো সুদৃঢ় করা এবং একই সঙ্গে দেশের জীবন বিমা খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও বিশ্বস্ত জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভবিষ্যতের পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি