চলতি সপ্তাহে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলো লিবিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাত। দেশটির হারিগা বন্দরে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি কোম্পানি তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেয়। এর পরই আরেকটি কোম্পানি প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেল করে তেল উত্তোলন কমানোর কথা জানায়। এর পর থেকে কমে যেতে থাকে লিবিয়ার ক্রুড অয়েল উৎপাদন। অয়েল প্রাইস ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানায়, লিবিয়ার জাতীয় তেল করপোরেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিরতে অয়েল কোম্পানি। হারিগা বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তোলন বন্ধ করে দিতে পারে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সিরতে তেল কোম্পানি লিখিতভাবে জানায়, অর্থনৈতিক চরম সংকট, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা, পুঞ্জীভূত ঋণ ও আপত্কালীন যন্ত্রাংশের সংকট এবং উত্তোলনকজের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও রাসায়নিকের অপ্রতুলতা রয়েছে। বন্দর বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এসব প্রতিবন্ধকতাও উত্তোলন বন্ধের জন্য দায়ী।

জাতীয় তেল করপোরেশন হারিগা বন্দরে তেল রফতানির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজার আরোপ’ করে। এটি চুক্তির একটি সাধারণ ধারা, যা মূলত উভয় পক্ষকে দায়বদ্ধতা বা বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়, যখন কোনো পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা বা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফোর্স মেজার আরোপের কারণেই কোম্পানিগুলো তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিচ্ছে।

বন্দর হারিগা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে লিবিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন প্রতিদিন ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। নতুন করে দেশটির তেল কূপগুলো বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদনের পরিমাণ কমে প্রতিদিন নয় লাখ ব্যারেলে গিয়ে ঠেকবে।

তেলক্ষেত্র ও এর পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের তহবিল বিতরণে জটিলতার কারণে লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিটি দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এতে খাতসংশ্লিষ্টরা মুনাফা সংকটে পড়ছেন বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। পরিকাঠামো সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংকটের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ফলে কয়েক মাসের মধ্যে দেশের ক্রুড অয়েল উত্তোলন প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে।