চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত টানা ১২ মাসের মতো খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির এ ধারা গত ১০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, খাদ্যশস্য ও চিনির দাম ক্রমাগত ফুলে-ফেঁপে ওঠায় খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এফএও।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা এপ্রিলের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গত বছরের মে মাসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
মূল্যসূচকের হিসাবে মে মাসে সর্বোচ্চ বেড়েছে ভোজ্যতেল, চিনি ও খাদ্যশস্যের দাম। এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহকৃত সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের পর রেকর্ড সর্বোচ্চ। এফএও জানায়, সর্বকালের শীর্ষে উঠে আসার অল্প কয়েক ধাপ পেছনে রয়েছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়লেই এটি মাইলফলক স্পর্শ করবে।
মে মাসে এফএওর খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক এপ্রিলের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারদরে ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। কৃষিপণ্যটির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় মে মাসের শেষ দিকে ভুট্টার দাম কমতে থাকে। মাসের শেষ দিকে গমের দামও কিছুটা কমে আসে। তবে ওই মাসে কৃষিপণ্যটির দাম এপ্রিলের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল ছিল।
গত মাসে বিশ্বজুড়ে ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। এ সময় পণ্যটির মূল্যসূচক এপ্রিলের তুলনায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। পাম অয়েল, সয়াবিন ও সরিষার তেলের চড়া বাজার ভোজ্যতেলের বৈশ্বিক দরবৃদ্ধিতে প্রধান জ্বালানি জুগিয়েছে। এফএওর প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাম অয়েল উৎপাদনে মন্থরগতির কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। এদিকে বৈশ্বিক চাহিদা বিশেষ করে বায়োডিজেল খাতে চাহিদা তুঙ্গে ওঠায় বেড়েছে সয়াবিন তেলের দামও।
মে মাসে চিনির মূল্যসূচক এপ্রিলের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ ব্রাজিল। এ বছর দেশটিতে আখ সংগ্রহ ও মাড়াই দেরিতে শুরু হয়। এছাড়া আখ উৎপাদনও তুলনামূলক কম হয়েছে। ফলে ভারত বাজারদরের ঊর্ধ্বগতি রুখতে বিশ্ববাজারে বড় পরিসরে চিনি সরবরাহ করলেও প্রক্রিয়াজাত পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।
একই মাসে মাংসের মূল্যসূচক এপ্রিলের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। চীন আমদানি বাড়িয়ে দেয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের মাংসের দাম বেড়ে যায়। এদিকে বিশ্বের শীর্ষ মাংস উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্থানীয় চাহিদা ও ব্যবহার বৃদ্ধিও মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্ববাজারে গত মাসে দুগ্ধপণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। গত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ২৮ শতাংশ। ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের আমদানি চাহিদা জোরদার হওয়ায় পণ্যটির দাম বেড়েছে। তবে নিউজিল্যান্ড আন্তর্জাতিক বাজারে মাখনের সরবরাহ বাড়ানোয় গত এক বছরে প্রথমবারের মতো দুগ্ধপণ্যটির দাম কমে যায়।
এদিকে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও। চলতি বছর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২৮২ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে জানানো হয়।










