গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এর আগের চার নিলামে অব্যাহতভাবে মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। প্রতিবারই ৪ শতাংশের বেশি হারে দাম বেড়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়ার পর নিউজিল্যান্ডের খামারিরা দুধ দোহন বন্ধ রেখেছেন। এ কারণে নিলামে দুগ্ধপণ্য তোলা হয়েছে স্বল্প পরিমাণে। পণ্যগুলোর চাহিদা কম থাকায় অংশগ্রহণকারীরা কম দাম হেঁকেছেন। এটি বিশ্ববাজারে দুগ্ধপণ্যের দাম কমে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বশেষ জিডিটি নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৫ হাজার ৩৯ ডলারে। এবারের নিলামে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার ১৬৫ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৩ হাজার ২৩৮ টন। নিলামে অংশ নিয়েছেন ১৭৭ জন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে জয়ী হয়েছেন ১০৯ জন।
নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। এটিকে নিলামের প্রধান পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত নিলামের তুলনায় পণ্যটির দাম কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৬ ডলারে।
দাম কমার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাখন। পণ্যটির দাম আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৯৫৮ ডলারে। এছাড়া ল্যাকটোজের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬১৮ ডলারে নেমেছে।
তবে বাকি পণ্যগুলোর দাম ঊর্ধ্বমুখীই ছিল। এর মধ্যে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৪৫ ডলারে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ১১১ ডলারে। চেডার পনিরের দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৪১২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এবারের নিলামে সুইট হুই পাউডার ও মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ উত্তোলন করা হয়নি।
এদিকে সর্বশেষ নিলামে দাম কমলেও তা রেকর্ড পর্যায়েই রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পাল্লা দিয়ে যেমন বাড়ছে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা, ঠিক তেমনি কমছে সরবরাহ। কারণ গত বছর থেকেই বিশ্বজুড়ে দুধ উৎপাদন মন্দার মুখে। পশুখাদ্যের দাম অব্যাহতভাবে বাড়ায় খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে। তাছাড়া সরবরাহ চেইনে সংকট বাজারে অস্থিতিশীলতাকে আরো তীব্র করে তুলেছে।
বৈশ্বিক এ নিলামে সবচেয়ে বেশি দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করে ওশেনিয়া মহাদেশ। এছাড়া দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর সরবরাহও থাকে ভরপুর। কিন্তু গত ছয় মাসে সরবরাহ আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কমেছে। ফলে শীর্ষ ভোক্তা দেশগুলোর মাঝে সরবরাহ নিশ্চিতে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে দুগ্ধপণ্যের চাহিদা বাড়ায় কমছে মজুদ। সর্বশেষ নিলামে বরাবরের মতোই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডব্লিউএমপি ও এসএমপি। আর এসব পণ্যের শীর্ষ ক্রেতা ছিল চীন। দুই বছর ধরে দেশটি রেকর্ড পরিমাণ দুগ্ধপণ্য আমদানি করেছে। এমন অস্বাভাবিক চাহিদার কারণেই দাম হু হু করে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, বছরের শেষ দিকে চাহিদা কিছুটা কমলেও বার্ষিক চাহিদার হার ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। তবে চলতি বছরও দুগ্ধপণ্যের সরবরাহ থাকবে কমতির দিকে। প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো বর্তমানে দুগ্ধপণ্যের মজুদ বাড়ানোর প্রতি জোর দিচ্ছে। উদ্দেশ্য আপত্কালীন ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলা করা। এছাড়া জাহাজীকরণ বিলম্বের কারণেও আগেভাগে দুগ্ধপণ্য সংগ্রহ করে রাখছে এসব দেশ।










