বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রে শোধনাগারের সংখ্যা বাড়ার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমে যাওয়া ও চীনে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এ পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার। 

আইসিই ফিউচারস ইউরোপে গতকাল জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আগের দিনের তুলনায় ৫৭ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেল কেনাবেচা হয়েছে ৮৪ ডলার ১৫ সেন্টে। 

অন্যদিকে জুনের সরবরাহ চুক্তিতে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫৬ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেল কেনাবেচা হয়েছে ৭৯ ডলার ৫৫ সেন্টে। 

এ বিষয়ে একজন স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক টিনা টেং বলেন, ‘‌মার্কিন জ্বালানি তেলের মজুদ প্রত্যাশার চেয়ে কমে যাওয়ায় বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এছাড়া চীনের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।’

এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেলের ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ গত সপ্তাহে ১৪ লাখ ব্যারেল কমে ৪৫ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুদ পূর্বাভাসের চেয়ে কমেছে। এর আগে দেশটিতে জ্বালানি তেলের মজুদ ১১ লাখ ব্যারেল কমবে বলে ধারণা করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। 

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুদ কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে দেশটিতে শোধনাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি। সম্প্রতি মার্কিন শোধনাগারগুলোয় দৈনিক ৩ লাখ ৭ হাজার জ্বালানি তেল শোধন করা হচ্ছে। আর এতে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ শোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ৬ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ব্যারেল হয়েছে। 

এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের এপ্রিলে দৈনিক ১ কোটি ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে চীন। চলতি বছরের এপ্রিলে তা ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এ হিসেবে এপ্রিলে চীন সর্বমোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।