এল নিনোর প্রভাব সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বেশকিছু প্রদেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় গড় মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে দেশটিতে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সংস্থাটির ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (জিএআইএন) শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটিতে সরগাম (এক ধরনের শস্য) ও চাল উৎপাদন বাড়তে পারে। এছাড়া যব ও গমের বার্ষিক উৎপাদন গত এক দশকের গড় পর্যায়ের কাছাকাছি থাকবে।
এতে আরো বলা হয়, চলতি বছর দেশটির গম উৎপাদন ২ কোটি ৫৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা গত ১০ বছরের গড়ের কাছাকাছি। তবে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন অনেক কমবে। ওই বছর রেকর্ড চার কোটি টন উৎপাদন হয়েছিল।
অন্যদিকে যব উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৫ লাখ টনে, যা গত ১০ বছরের গড়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৪১ লাখ টন। সে হিসাবেও উৎপাদন নিম্নমুখী থাকবে।
বিশ্লেষকরা জানান, এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় গম ও যব উৎপাদন ব্যাপক মাত্রায় কমার আশঙ্কা ছিল। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত এ উদ্বেগ কিছুটা শিথিল করেছে। এর আগে কয়েক বছর ধরেই রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে দেশটিতে।
এফএএস জানায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ ভালো থাকায় শীতকালীন গম ও যব উৎপাদন নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকেই দেশটিতে এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে তখন থেকেই শস্য দুটির উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এফএএসের তথ্যমতে, এ বছর অস্ট্রেলিয়ায় ১৮ লাখ টন সরগাম উৎপাদন হতে পারে। এর বেশির ভাগই রফতানি করা হবে। চাল উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫ লাখ ২২ হাজার টনে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
উৎপাদন নিয়ে এমন পূর্বাভাস সত্য হলে চলতি বছর দেশটির চাল আমদানি আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমতে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দুই লাখ টনে। অন্যদিকে ১২ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৮০ হাজার টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে এফএএস।










